পরিসংখ্যান ও এসপিএসএস শিখি ৩: গুণগত ও পরিমাণগত গবেষকদের ঝগড়া এবং একক ও চলকের বিভ্রান্তি

গৌতম রায়: আগের দুটো পর্ব আমরা পার করেছি মূলত ফাঁকিবাজি করে। চলুন এ পর্ব থেকে শুরু করি কাজের আলোচনাগুলো। শিক্ষা কিংবা সামাজিক বিজ্ঞানে গবেষণাকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়- গুণগত (qualitative) এবং পরিমাণগত (quantitative)। গবেষকদের একদলকে শুধু গুণগত গবেষণাকে প্রাধান্য দিতে দেখা যায়, অপরদিকে আরেকদল প্রাধান্য দেন পরিমাণগত গবেষণাকে। মাঝখানে আরেকটি দল আছে যারা দুটোকেই মিশিয়ে গবেষণার পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। গুণগত গবেষণা এবং পরিমাণগত গবেষণা নিয়ে নানা সময়ে নানা ধরনের বিতর্কও শোনা যায়- যদিও এসব বিতর্ক এক অর্থে অর্থহীন; কারণ দুটো পদ্ধতিরই সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে, শক্তিশালী ও দুর্বল দিক রয়েছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য অনুসারে একটি নির্দিষ্ট গবেষণার জন্য কোন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত, সেই বিষয়ে এবং ওই নির্দিষ্ট গবেষণার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিতর্ক করা যেতে পারে।

পরিমাণগত গবেষণা কেন? গুণগত গবেষণার সাথে এর পার্থক্য কোথায়?
যখন আমরা কোনো একটি নির্দিষ্ট গবেষণার বিষয়ে চিন্তাভাবনার প্রাথমিক কাজগুলো করি, তখনই মূলত সিদ্ধান্ত নিতে হয় এই গবেষণা থেকে ঠিক আমরা কী বের করতে চাই। উদাহরণস্বরূপ, গবেষণা থেকে নিচের বিষয়গুলো বের করা যেতে পারে:

Continue reading

Posted in গবেষণা, পরিসংখ্যান | Tagged , , , , | Leave a comment

উচ্চ শিক্ষা এবং কিছু কথা

আকলিমা শরমিন: আমাদের বর্তমান সরকার আমাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাই এই সরকারের কাছে আমরা যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করি বা চিন্তা-ভাবনা করি তাদের চাওয়া অনেক। কারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার তো আর শেষ নেই এবং এইগুলো আমাদের শিক্ষাকে একটি মানসম্মত এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই চাওয়া। আমাদের সরকার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময়োপযোগী এবং কার্যকরী সিন্ধান্ত নিয়ে অনেক সফলতার সাথে তার বাস্তবায়ন দেখিয়েছেন। নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা যা হাজারটা সমস্যার আবর্তে আবর্তিত তার জন্য আমরা কি কোন পদক্ষেপ আশা করতে পারি না?

যেকোন জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটে উচ্চ শিক্ষার হাত ধরে। উচ্চ শিক্ষাই নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে জাতিকে। আর আমাদের দেশে এই উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাই অনেক সমস্যার জালে জড়িত। সবগুলো নিয়ে এখন কথা বলা সম্ভব না, সেই সবগুলো একসাথে সমাধানও সম্ভব নয়। আমরা সেটা আশাও করতে পারি না। তবে আজকে যে সমস্যাটির কথা আলোচনা করতে চাচ্ছি সেটি হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা। আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কথা। কিছুদিন আগে কায়কোবাদ স্যার প্রথম আলোতেই তাঁর একটি লেখায় এই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সুন্দর এবং যুগোপযোগী কিছু মতামত দিয়েছিলেন। আমি তাঁর মতামতের সাথে সম্পূর্ণ একমত। তিনি বলেছিলেন, বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার কথা। অবশ্যই তা করা জরুরী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য SAT বা GRE মানের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার জন্য অনেক গবেষণা প্রয়োজন এবং সেটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আমরা একটু অন্যভাবেও এই সমস্যার সমাধান করে আমাদের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কষ্ট লাঘব করতে পারি; যতদিন না SAT বা GRE মানের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হচ্ছে ততদিনের জন্য। তার আগে একটু দেখি এই ভর্তি পরীক্ষার জন্য কী ধরনের দুর্ভোগ অভিবাবক ও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে।

Continue reading

Posted in অর্থায়ন, উচ্চশিক্ষা, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা, ভর্তি পরীক্ষা | Tagged , , , | 2 Comments

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বলার চর্চা

মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ: আমাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি বলার চর্চা কতটা হচ্ছে- এ প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই বড় ’না’ বোধক হবে। শিক্ষক যখন ইংরেজি পড়ান তিনি কি তখন ইংরেজি বলেন? তিনি ইংরেজি বলেন না কারণ কেউ কেউ মনে করেন ইংরেজি বললে শিক্ষার্থী তার কথা বুঝবে না। আসলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বলা উচিত কারণ কৈশোরে বয়সের শিক্ষার্থীরা যতটুকু শুনবে ততটুকু মনে রাখতে পারে। তার অনুকরণপ্রিয়। শিক্ষক যা করবেন, তারাও তাই করবে, শিক্ষক যা বলবেন তারাও তাই বলবে। আমার মনে আছে আমি প্রায়ই ক্লাসে ইংরেজি বলতাম। ছাত্রছাত্রীরা মজা করে বা ব্যঙ্গ করে, অনুকরণ করে হোক কিংবা বয়সের কারণেই হোক, তার ঐ শব্দগুলো বলতো। অর্থাৎ শব্দগুলোর ব্যবহার তারা শিখেছে। এভাবে শিক্ষক যখন তাদের ইংরেজিতে কোনো বাক্য জিজ্ঞেস করবে, তখন তারা বাক্যটি শিখে ফেলবে এবং বাস্তবজীবনে ব্যবহার করতে শিখবে। তারা জেনেছে কোন অবস্থায় এই বাক্যটি ব্যবহার করতে হয়। মাতৃভাষা ব্যতীত অন্য কোন দ্বিতীয় ভাষা শিখার এটি একটি উৎকৃষ্ট উপায় ।

এভাবে ইংরেজি শিখার ফলে একদিকে যেমন ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর এবং শিখনবান্ধব করে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, সাহসী করে তোলে এবং সর্বোপরি ইংরেজি ভাষা মূলত যে জন্য আমরা শিখি সেই উদ্দেশ্যগুলোও সফল হবে। আর ক্লাসে যখন এ ধরনের পরিবেশ বিরাজ করে যে, ছাত্র-শিক্ষক এক বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ শিখন-শেখানোর কাজ করছেন, তখন শিক্ষার্থীরা সব সময়ই আকর্ষণ থাকবে ক্লাসের দিকে। তার ঐ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ থেকে নিজকে দূরে রাখতে চাইবে না অর্থাৎ ক্লাসে থাকার কিংবা আসার জন্য উদগ্রীব থাকবে। শিক্ষক কোন অবস্থায় কী বাক্য ব্যবহার করতে হয়, কোন বাক্যে কি ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে হয় তা শিক্ষার্থীরা ক্লাসে স্পোকেন ইংরেজির মাধ্যমেই শিখে ফেলবে, আলাদা বই থেকে অবাস্তব অবস্থা থেকে মুখস্থ করবে না।

Continue reading

Posted in ভাষা শিক্ষা, মাধ্যমিক, শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়া | Tagged , , | 1 Comment

মাহতাবের একদিন: একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে নেওয়া

মুশফিকুর রহমান: মায়ের আদুরে গলার ডাকে ঘুম ভাঙ্গে মাহতাবের। ঘুম ভাঙ্গে কিন্তু চোখও খুলে না, সারাও দেয় না। এখন চোখ খোলা মানে বিছানা ছাড়া। ঘুম ভাঙ্গার পর এক মুহূর্তও বিছানায় থাকার অনুমতি নেই। মায়ের ডাকে বুঝতে পারে ভোর হয়েছে কিন্তু এই শীতের ভোরে কিছুতেই বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে হয় না।

মায়ের মত মা ডেকেই যাচ্ছে, মাহতাব না শোনার ভান করে বিছানায় শুয়েই আছে। মাহতাব তার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জানে মা এভাবে দশ মিনিট ডাকবে। এরপর পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার আসবে। তখন ডাকের সাথে থাকবে বকা। এ হল নিত্যদিনের নৈমিত্তিক ঘটনা। এই সময়ে মাহতাব মায়ের উপর বিরক্ত হয়। আহা! কত সুন্দর স্বপ্নটা ভেঙ্গে গেল। মাত্রই বল নিয়ে বিপক্ষ দলের গোলবারের কাছে চলে এসেছিল। শট করাটা বাকি আর মিনিট খানিক সময় পেলেই রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েই দিত। ঠিক সেই সময়েই মায়ের ডাক। কাহাতক আর সহ্য করা যায়?

Continue reading

Posted in বিভাগহীন | Leave a comment

সাধারণ জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে কিভাবে ইংরেজি পড়াবেন?

মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ: আমরা যখন ভাষা শিখি কিংবা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে শেখাই, পারিপার্শ্বিক বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো উপেক্ষা করতে পারি না। বরং ঐ ঘটনাগুলো বার বার আমাদের নাড়া দেয়, আমাদের নিত্যদিনের পাঠদানকে প্রভাবিত করে। দৈনন্দিন কার্যাবলী করার সময়ে এবং ক্লাসে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আলোচনা করি, না করে পারি না কারণ সচেতন মানুষ হিসেবে এটি প্রাকৃতিক তাগিদ এবং চাহিদা। এই আলোচনাগুলোকে আমরা ইংরেজি শেখানোর কাজে লাগাতে পারি।

যেমন এই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে গেছে বেশ কয়েকটি ঘটনা (আগস্ট ২০১১)। এ ঘটনাগুলো আমরা রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানি, উত্তেজিত হই, রিঅ্যাক্ট করি, মতামত প্রকাশ করি, আলোচনা, সমালোচনা করি, পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলি, ডিবেট করি এগুলো নিয়ে। এই বিষয়গুলোই আমরা ভাষা শিখানোর ক্লাসে এবং গ্রামার শেখানোর ক্লাসে কাজে লাগাতে পারি। এতে কয়েকটি প্রত্যক্ষ উপকার হবে।

Continue reading

Posted in দক্ষতা ও উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা, শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়া | Tagged , , | 1 Comment

ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা

রাসেল: ব্যক্তিগত চৌহদ্দি আর সামষ্টিক চৌহদ্দির ভেতরের তফাতগুলো রাষ্ট্রের বিদ্যমান ব্যবস্থায় কিভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় আসলে? ধরা যাক একজন মৌখিকভাবে তার পুত্র কিংবা কন্যাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করলো- কিংবা তার অভিভাকত্বের দাবী অস্বীকার করলো সমাজের সামনে। তার পরিজন জানে পিতা এবং সন্তানের ভেতরের এই বিরোধ এবং পিতার সিদ্ধান্তের কথা- কিন্তু রাষ্ট্র কি এই মৌখিক অস্বীকৃতিটুকু আমলে আনতে পারবে কখনো? ধরা যাক সেই লোক কোনো উইল না করেই মৃত্যু বরণ করলো এখন ত্যাজ্য পূত্র যদি তার পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার দাবী করে, রাষ্ট্র কি সে অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করব? রাষ্ট্রের কি এটা করা উচিত হবে? রাষ্ট্রের বিদ্যমান আইনের কাঠামোতে যদি এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকে তাহলে সন্তানের উত্তরাধিকার সূত্রেই পিতৃসম্পদের উপর অধিকার জন্মায়।

মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে কোন না কোনো গাত্র বর্ণের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাতে পারে, চেহারার সৈন্দর্য্যের উপরে বাড়তি গুরুত্ব আরোপ করতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র কি তার বিধানে এমন কোনো গাত্রবর্ণের প্রতি আলাদা পক্ষপাতিত্ব দেখাতে পারবে? যুক্তরাষ্ট্রে একটা আইন প্রণীত হয়েছিলো অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে যেখানে বলা হয়েছিলো যদি কোনো শেতাঙ্গ কোনো কৃষ্ণাঙ্গকে শিক্ষা প্রদান করে তবে সেটা অপরাধ এবং এ অপরাধের জন্য তার ১০০ ডলার জরিমানা দিতে হবে উপরন্তু তাকে৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হবে। কোনো কৃষ্ণাঙ্গ যদি কোনো কৃষ্ণাঙ্গকে শিক্ষা দেয় কিংবা এমন কোনো প্রকল্প গ্রহন করে তবে তারা বরাদ্দ শাস্তি ১০০ ঘা চাবুক।

Continue reading

Posted in ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার নীতি | Tagged , , | Leave a comment

বিদ্যালয়ে ডোনেশন প্রথা বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের

গৌতম রায়: নারী সাংবাদিকের ওপর সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের চড়াও হওয়ার ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ে ডোনেশন প্রথার বিষয়টি বেশ আলোচনায় এসেছে। বিদ্যালয়ে ডোনেশনের মাধ্যমে ভর্তির বিষয়টি এখন লুকোছাপার বিষয় নয়, বরং ঢাকার বিদ্যালয়গুলো ঘোষণা দিয়েই অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রতি বছর বড় অংকের টাকা ডোনেশন নিচ্ছে। সাধারণত ডোনেশনের দুটো পদ্ধতি দেখা যায়- এক, বড় অংকের টাকা ডোনেশন দিলে ছাত্র বা ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়; দুই, যারা এমনিতেই ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে তাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কিছু টাকা ডোনেশন হিসেবে নেয়া হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম বা বড় শহরের বিদ্যালয়গুলোতে ডোনেশন মোটামুটি চালু এবং সবার জানা বিষয়। ফলে সরকার ঢাকার বিদ্যালয়গুলোর জন্য সর্বোচ্চ ফি পাঁচ হাজার টাকা এবং ঢাকার বাইরের বিদ্যালয়গুলো তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

ঝামেলাটা বেঁধেছে এজন্য যে, বিদ্যালয়গুলো সরকার-নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে অভিভাবকদের কাছ থেকে এবং সেটা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু বিদ্যালয় অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে রেখেছে, তবে জানিয়ে রাখা আর অনুমতি নেয়া সমার্থক কিনা তা অবশ্য জানা যায় নি। কামাল আহমেদ মজুমদারের ঘটনাটি না ঘটলে বিষয়টি এতোটা হাইলাইটেডও হতো কিনা সন্দেহ! এ ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষাসচিব ঢাকার অনেকগুলো বিদ্যালয়ের সাথে বৈঠক করেছেন, তবে তাতে শেষ পর্যন্ত সুরাহা হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

Continue reading

Posted in অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা, ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা | Tagged , , , | Leave a comment

ফাইনাল পরীক্ষা মানেই কি তিন ঘন্টার বহুসংখ্যক রচনামূলক প্রশ্ন সম্বলিত লিখিত পরীক্ষা?

আহ্‌মদ ইকরাম আনাম : কালে কালে তো পরীক্ষা আর কম দেয়া হয়নি। শিক্ষাজীবন মানেই পরীক্ষা আর পরীক্ষা। ক্লাস ঠিক মত হোক আর না হোক, পরীক্ষা খুব ঠিকমতই হয় সর্বদা। ছোট পরীক্ষা, বড় পরীক্ষা আর মাঝারি পরীক্ষার অভাব শিক্ষাজীবনে হয় না। আজকে পরীক্ষার ব্যপ্তি নিয়ে লেখার নিয়তে লিখতে বসেছি। দেখি কত দূর কী লিখতে পারি!

স্কুলে এবং কলেজে আমরা যে পরীক্ষাগুলো দিয়েছি তার কতগুলো ভাগ রয়েছে। ক্লাস চলার মৌসুমে ৫ মার্কস, ১০ মার্কস বা ১৫ মার্কসের যে পরীক্ষা আমরা দিয়েছি তাকে বলে ক্লাস টেস্ট বা শ্রেণী পরীক্ষা। এরকম প্রতি বিষয়ের জন্য ২-৩ টি বা অনেক স্কুলে ৪-৫ টি শ্রেণী পরীক্ষা হয়। পরে ১ম সাময়িক, অর্ধ-বার্ষিক বা বার্ষিক পরীক্ষায়, শ্রেণী পরীক্ষায় প্রাপ্ত মার্কস নানা কায়দায় যোগ করা হয়। কোথাও একাধিক শ্রেণী পরীক্ষার মার্কসের গড় যুক্ত হয়, কোথাও বেস্ট ২ টা পরীক্ষার মার্কস নেয়া হয়, আবার কোনো কোনো স্কুল-কলেজে শ্রেণী পরীক্ষার মার্কসের একটা নির্দিষ্ট শতাংশ চূড়ান্ত পরীক্ষার সাথে যুক্ত হয়। শিক্ষা মূল্যায়নের ভাষায় এই ক্লাস টেস্টকে বলা হয় ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্ট আর চূড়ান্ত পরীক্ষা অর্থাৎ বার্ষিক বা অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষাকে বলা হয় সামেটিভ অ্যাসেসমেন্ট। স্কুল-কলেজে ক্লাস টেস্ট বা ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্ট হয় একটা বড় প্রশ্ন বা একাধিক ছোট প্রশ্নের সমন্বয়ে। মাঝে মাঝে শিক্ষকগণ বহুনির্বাচনী ধরণের প্রশ্নেও এ পরীক্ষা নেন। ক্লাস টেস্টের ব্যপ্তি হয় এক ঘন্টা বা ৪৫ মিনিট। এখানে খুব বেশি লিখতে হয় না।

Continue reading

Posted in পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা, পরীক্ষা ব্যবস্থা, বিভাগহীন, মূল্যায়ন | Tagged , , , , | Leave a comment