content top

ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে ইংরেজি শিক্ষা কার্যক্রম: সম্ভাবনার নতুন দ্বার

আসাদ-উজ-জামান: বিশ্বায়নের এ যুগে ইংরেজি শিক্ষার শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা (ESL) হিসেবে প্রচলনের দাবিও দীর্ঘদিনের। গ্রামীণ মানুষের জন্য ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে (ইউআইএসসি) চালু করা হয়েছে ইংরেজি শিক্ষা কার্যক্রম, উম্মোচিত হয়েছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। ফলে এখন থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাথী, শিক্ষিত বেকার যুবক, শিক্ষক ও অভিভাবকরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইংরেজি পার্শ্ববর্তী ইউআইএসসি থেকেই শিখতে পারবেন।

ইংরেজি শিক্ষা

ইংরেজি শিক্ষা

বিস্তারিত

কোচিং সেন্টারগুলো কি ইংরেজি শেখাতে পারে ?

মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ: স্কুল ও কলেজে ইংরেজি ভাষা শেখানোর শিক্ষক নেই, ব্যতিক্রম ছাড়া। ভাষা শেখানোর মত প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক আমরা আসলে তৈরি করতে পারি নি অথচ ইংরেজির গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত ও বেসরকারি পর্যায়ে শুরু হয়েছে ইংরেজি শেখানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রচেষ্টা। কে কতটা সফল এবং বাস্তবমুখী তার নেই কোনো সঠিক পরিসংখ্যান এবং গবেষণা। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে নিজেরাই প্রচার করে নিজেদের সাফল্যের কথা। আমি দু-একটি অনুষ্ঠান টিভির পর্দায় দেখেছি। শিক্ষক নিজে পুরো কথাটাই বাংলায় বলছেন। বাংলার মাধ্যমে যেভাবে ইংরেজি শেখানোর প্রচেষ্টা চলছে তাতে ইংরেজি শেখানো হচ্ছে না; হয়ত ‘বাংরেজি’ কিছুটা হচ্ছে। ভাষা শেখানোর জন্য দরকার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রচুর পড়াশোনা ও একাগ্রতা। এই বিষয়গুলো আমাদের স্কুল ও কলেজেই যেহেতু নেই- প্রশ্ন জাগে তাহলে এইসব জায়গায় কারা পড়ান ইংরেজি?

ছাত্রজীবনে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শেখার জন্য ইংরেজি পড়ে নি। পরীক্ষায় পাশ করার জন্য পড়েছে। পরীক্ষায় পাশ করে এসেছে কিন্তু ইংরেজি শেখা হয় নি। বাস্তবজীবনে এসে যখন দেখল তাদের ইংরেজি পড়া এবং বাস্তবজীবনে ইংরেজি ব্যবহারের মধ্যে অনেক তফাৎ, তখনই তারা আবার এই ভাষা শেখার জন্য লেগে যায়। এই সময় যেহেতু স্কুল ও কলেজে আর যাওয়া যায় না তাই তারা বিকল্প খোজে আর এই বিকল্প জায়গাই দখল করেছে কোচিং সেন্টারগুলো। বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও প্রচার দেখে মনে হয় এই কোচিংগুলোর ব্যবসা রমরমা । আর দেখা দিয়েছে প্রতিযোগিতা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মধ্যে। অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়েছেন এখানে শিক্ষাদান করাতে। তাদের প্রতিষ্ঠানে তারা ব্যর্থ হয়েছেন ইংরেজি শেখাতে, এখানে আসছেন ব্যবসা জমাতে, ইংরেজি শেখাতে নয় ।

বিস্তারিত

প্রাইভেট কোচিং সঠিক জ্ঞানার্জনের পথে অন্তরায়

মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ: গত ২১ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঢাকার ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে তার অফিসে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। উপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ সকলেই শিক্ষকদের কর্তৃক পরিচালিত কোচিং ব্যবসা করার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। মন্ত্রী বাস্তব একটি উত্তর দিয়েছেন যে, হুট করে এই মূহুর্তে কোচিং বন্ধ করা যাবে না কারণ এটি অনেক গভীরে ঢুকে গেছে। তাছাড়া শিক্ষকগণ ক্লাসে পুরো পাঠ শেষ করেন না। অতএব এই মুহুর্তে প্রাইভেট কোচিং করে দিলে ছাত্রছাত্রী বা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

দেশের আনাচেকানাচে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ধরনের কোচিং সেন্টারগুলো আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকে ধবংস করতে বসেছে। শুধু আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বিকল্প নয় বরং আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতিদ্বন্দ্বিরূপে আবির্ভূত হয়েছে এই শিক্ষাদানরূপী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন প্রশ্ন হচেছ কেন এইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে? নিশ্চয়ই সময়ের দাবীতে এবং সময়ের প্রয়োজনে। আমাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে পারেনি এবং তাদরকে স্কুল ও কলেজের প্রতি আগ্রহী করতে পারেনি। তাই ছাত্রছাত্রীরা ভিড় জমাচ্ছে কোচিং সেন্টারগুলোতে। স্কুল-কলেজের ক্লাসরুম ফাঁকা অথচ ভিড় সব কোচিং সেন্টারগুলোতে কিংবা শিক্ষকদের বাসায়। স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রী রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে — শারীরিক ও অর্থনৈতিক শাস্তি; তারপরেও সন্তোষজনক উপস্থিতি নেই ক্লাসে। দিন দিন প্রতিযোগিতা বেড়ে যাচ্ছে এবং এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মত যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভুমিকা পালন করতে পারেনি বিধায় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা কোচিংমুখী হয়েছে। ব্যতিক্রম ছাড়া কোচিংগুলো তাদের সে প্রত্যাশা পুরণে সফলও হয়েছে আর তাই এই ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে। দিনে দিনে এর ভিত হয়েছে মজবুত এবং শক্ত। কারণ ছাড়া কোন কিছুই হয় না। সময় এবং প্রয়োজন জন্ম দিয়েছে এইসব কোচিং সেন্টারের কাজেই বৃহৎ কোন সিদ্ধান্ত ছাড়া হুট করে এই সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেয়া যাবে না।

বিস্তারিত

গ্রামার ট্রানস্লেশন এবং কমিউনিকেটিভ ইংলিশ- দুটো কি বিপরীতধর্মী পদ্ধতি? কোনটি বেশি কার্যকর?

মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ: ১৯৯৮ সালে আমাদের সিলেবাসে কমিউনিকেটিভ ইংলিশ চালু করা হয় এই উদ্দেশ্যে যে, গ্রামার ট্রানস্লেশন মেথড শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ইংরেজি শেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই তাদের কমিউনিকশেন স্কিল বাড়াতে হবে একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার নিমিত্তে। গ্রামার ট্রানস্লেশন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর ভূমিকা ছিল নিস্ক্রিয়। ক্লাস চলাকালীন তাদের নীরব ভুমিকা পালন করতে হতো এবং শুধু লেখার ক্ষেত্রে তারা কিছু্টা সক্রিয় থাকত। সেটাও সীমাবদ্ধ ছিল তাদের গ্রামার লেখা নিয়ে। এভাবে পাঠদানের অধিকাংশ সময়ই তারা নিস্ক্রিয় থাকতো বলে কমিউনিকেশনের দক্ষতা তাদের বৃদ্ধি পেত না। শিক্ষক শুধু লেকচার দিতেন আর দু-একজন শিক্ষাথী শুধু দুই একটি প্রশ্ন শিক্ষকদের করতো, এছাড়া তেমন কোন সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের ছিল না। ক্লাস যত বেশী নীরব থাকত শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং অন্যান্যরা ভাবতেন যে, খুবই ভালো ক্লাস হচ্ছে কারণ ক্লাসে কোন হৈ চৈ নেই, শব্দ নেই। এভাবে ছাত্রশিক্ষকের মধ্যে যে ব্যবধান সৃষ্টি হতো তা তাদের সহপাঠীদের সাথে দক্ষতার ব্যবধান সৃষ্টি করতো। কমিউনিকেটিভ ইংলিশ সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেয় কারণ শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহার করতে হবে ক্লাসে, তবেই তারা ইংরেজি শিখবে। আর এটি করতে গিয়ে ক্লাসে গোলমাল হয়, তখন স্কুল অথরিটি এবং কমিউনিকেটিভ ইংলিশ সম্পর্কে যেসব শিক্ষকদের ধারণা নেই তারা এটিকে গোলমেলে ক্লাস বলে থাকেন। ব্যাপারটি কি আসলেই তাই?

কমিউনিকেটিভ ল্যাংগুয়েজ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা শুধু স্পিকিং এবং রাইটিং-এর মতো প্রোডাকটিভ দক্ষতাই অর্জন করে না, তারা রিসেপটিভ স্কিল যেমন লিসেনিং এবং রিডিং স্কিলও অর্জন করে। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হচ্ছে কী? তারা কি বাস্তব জীবনে কমিউনিকেশন দক্ষতা অর্জন করছে? কমিউনিকেটিভ ল্যাংগুয়েজ টিচিং-এ শিক্ষকের কাজ হচ্ছে দ্বিতীয় ভাষায় পরীক্ষানীরিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রাখা যার মাধ্যমে তারা যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করবে ক্লাসরুম এবং ক্লাসরুমের বাইরে। ক্লাসরুমে এমন সব কার্যাবলীর অবতারণা করবেন শিক্ষক যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তবজীবনে কমিউনিকেশনের সুযোগ পায়। একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলে কমিউনিকেশন করবে ইংরেজির চারটি স্কিল ব্যবহার করে।

বিস্তারিত

মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি বলার চর্চা

মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ: আমাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি বলার চর্চা কতটা হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই বড় ’না’ বোধক হবে। শিক্ষক যখন ইংরেজি পড়ান, তিনি কি তখন ইংরেজি বলেন? তিনি ইংরেজি বলেন না, কারণ কেউ কেউ মনে করেন ইংরেজি বললে শিক্ষার্থী তার কথা বুঝবে না। আসলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বলা উচিত কারণ কৈশোরে বয়সের শিক্ষার্থীরা যতটুকু শুনবে ততটুকু মনে রাখতে পারে। তারা অনুকরণপ্রিয়। শিক্ষক যা করবেন, তারাও তাই করবে। শিক্ষক যা বলবেন তারাও তাই বলবে। আমার মনে আছে আমি প্রায়ই ক্লাসে বলতাম, You boy, so what, thanks a lot ইত্যাদি। ছাত্রছাত্রীরা মজা করে বা ব্যঙ্গ করে, অনুকরণ করে হোক কিংবা বয়সর কারণেই হোক, তারা ঐ শব্দগুলো বলতো। অর্থাৎ শব্দগুলোর ব্যবহার তারা শিখেছে। এভাবে শিক্ষক যখন তাদের জিজ্ঞেস করবে What about your homework? তারা বাক্যটি শিখে ফেলবে এবং বাস্তবজীবনে ব্যবহার করতে শিখবে। তারা জেনেছে কোন্ অবস্থায় এই বাক্যটি ব্যবহার করতে হয়। মাতৃভাষা ব্যতীত অন্য কোন দ্বিতীয় ভাষা শিখার এটি একটি উৎকৃষ্ট উপায়।

শিক্ষক ক্লাসে গিয়ে বলবেন Good morning, My dear students, how are you? এই শব্দগুলো একদিকে যেমন ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর এবং শিখনবান্ধব করে; অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, সাহসী করে তোলে এবং সর্বোপরি ইংরেজি ভাষা মূলত যে জন্য আমরা শিখি সেই উদ্দেশ্যগুলোও সফল করতে সহায়তা করে। আর ক্লাসে যখন এই ধরনের পরিবেশ বিরাজ করে যে, ছাত্র-শিক্ষক এক বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ শিখন-শেখানোর কাজ করছেন, তখন শিক্ষার্থীদের সব সময়ই আকর্ষণ থাকবে ক্লাসের দিকে। তারা ঐ বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইবে না অর্থাৎ ক্লাসে থাকার কিংবা আসার জন্য উদগ্রীব থাকবে। শিক্ষক বলবেন, Please open at page 19. Now let us start chain drill. Let us start a new lesson, shall we? tag question কোন অবস্থায় ব্যবহার করতে হয়, কোন বাক্যে কী ধরনের tag ব্যবহার করতে হয় তা শিক্ষার্থীরা ক্লাসে স্পোকেন ইংরেজির মাধ্যমেই শিখে ফেলবে, আলাদা বই থেকে কিংবা অবাস্তব অবস্থা থেকে মুখস্থ করতে হবে না। বাস্তব অবস্থায় যখন তারা শিখবে তার গুরুত্ব এবং তা ধরে রাখার ক্ষমতা থাকে দীর্ঘদিন।

বিস্তারিত
2টি পৃষ্ঠার 1 নম্বরে আছেনবর্তমান 12
content top