বাংলাদেশের শিক্ষা - ছোট
বাংলাদেশের শিক্ষা - ছোট


এস এম মাহবুব মুর্শেদ: আমি নিশ্চিত অনেকেই ক্যারিয়ারের একটি প্রান্তে এসে এধরনের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। কিন্তু এ রকম বিষয়ে আলোচনার একটি জায়গা পাওয়া মুশকিল। অনলাইনে যদিও প্রচুর আলোচনা রয়েছে, কিন্তু প্রত্যেকের ইস্যু স্বতন্ত্র্য বলে বেশীরভাগ আলোচনাই অনেক ক্ষেত্রে ফলপ্রসু সিদ্ধান্তের সহায়ক নয়। আমি একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে এই ব্লগটির মাধ্যমে আমার চিন্তাভাবনাকে স্ট্রিমলাইন করতে চেষ্টা করছি। আশা করছি আলোচনাটা হয়ত আরো অনেকের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে।

যদিও আসল ডিলেমা আসে শুধু মাত্র পিএইচডি এবং এমবিএ এর মধ্যে, আমি প্রেক্ষাপটটা বিস্তৃত করতে তিনটি উচ্চ শিক্ষার ধারাই আলোচনা করবো – মার্স্টাস বনাম পিএইচডি বনাম এমবিএ। তাছাড়া আলোচনাটা আমেরিকার পরিপ্রেক্ষিতে করলেও প্রায় সব দেশের প্রেক্ষাপটে একই ধরনের আর্গুমেন্ট কার্যকরী হবে বলে আমার বিশ্বাস।

উচ্চ শিক্ষা – কত উঁচু?
একটা সময় ছিলো যখন শুধু আন্ডারগ্রাজ্যুয়েট করলেই নির্ভরশীল এবং ভালো বেতনের একটি চাকুরী নিশ্চিত ছিলো। কিন্তু যুগ বদলেছে, বেড়েছে প্রতিযোগীতা। তাই নিদেনপক্ষে মার্স্টাস ছাড়া ভালো চাকুরী পাওয়াটা শক্ত।

কিন্তু উন্নত দেশে বিষয়টি আরো এক ধাপ বেশী শক্ত। তার উপর যদি আপনি বহিরাগত হন তাহলে তো কথাই নেই। পিএইচডি, একাধিক মাস্টার্স, মার্স্টাস বা পিএইচডির সাথে এমবিএ করা লোকজনের একেবার অপ্রতুল নয়। সুতরাং ক্যারিয়ারে এক ধাপ এগিয়ে যেতে আপনারও প্রয়োজন কম্পিটিটিভ অ্যাডভ্যান্টেজ। আরো উচ্চ শিক্ষা, আরো একটি ডিগ্রী।

বিষয়টি আপনার শিক্ষার বিষয়টির সাথেও জড়িত। ডাক্তারী পড়লে যেমন অতি উচ্চশিক্ষার খুব প্রয়োজনীয়তা নেই বলা যায়। তেমনি ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা কম্পিউটার সায়েন্স পড়লে শুধু একটি মার্স্টাস থাকলেই ভালো চাকুরীর সুযোগ রয়েছ। অর্থাৎ বাজার বুঝে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

অবশ্যই পুরো বিষয়টি আপনার দৃষ্টিভঙ্গীর উপরও অনেকখানি নির্ভর করে। “মানুষ তার স্বপ্নের সমন বড়।”

মার্স্টাস – মার্স্টাস কিন্তু মাস্টর সাব নয়
আন্ডারগ্র্যাজুয়েটর পর মার্স্টাস শিক্ষা নেয়াটা নো ব্রেইনার। তবে যদি পিএইচডি করার ইচ্ছা থাকে তাহলে মার্স্টাস না করে সরাসরি পিএইচডি শুরু করে দেয়া ভালো। নইলে হয় সরাসরি এমবিএ কিংবা মার্স্টাসটা করে তারপর এমবিএ করা যেতে পারে। যে সিদ্ধান্তই নিন না কেনো আজকের বাজারে মার্স্টাস করাটা দরকারী।

পিএইচডি – পার্মানেন্ট হেড ড্যামেজ
পিএইচডি করার বৈশিষ্ট্য হোলো: স্পেশালাইজেশন। আপনি যে বিষয়ে পড়াশোনা করছেন সে বিষয়ে (মতভেদে) প্রায় সবটুকু শিক্ষা নিয়ে ফেলছেন। সঙ্গে থাকছে একটি থিসিস। এই ডিগ্রী নিয়ে ক্যারিয়ারের পথগুলো হবে খুব সংকীর্ণ কিন্তু উঁচুমাত্রায় স্পেশালাইজড।

পিএইচডি করার একটি আকর্ষণ হোলো অতি সম্মানজনক একটি পদবী। তাছাড়া থিসিস, পেপার এসবের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞানের ভান্ডারে একটা অমরত্ব লাভ করা সম্ভব হয়। গবেষনার মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে আরো এগিয়ে নেয়া যায়। আর থাকে মোটা বেতনের নিশ্চিত ভবিষ্যত।

কিন্তু বাস্তবে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় পিএইচডি ধারীকে। পিএইচডি ধারীদের একটা বড়সড় অংশের গন্তব্য এবং লক্ষ্য থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি পিএইচডি করার পর প্রফেসর পদে চাকুরী পেতে এক থেকে দুই বছর পোস্ট ডক করতে হচ্ছে অনেককে। ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দিয়েও অনেকের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় না। উপরন্তু খুব ভালো ইউনিভার্সিটি থেকে খুব ভালো বিষয়ে ডক্টরেট না করলে সহজে ভালো কোথাও চাকুরী পাওয়াও সহজ নয়। ইদানীং অর্থনৈতিক মন্দার কারনে স্বস্তায় অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর দিয়ে কাজ চালাচ্ছে ইউনিভার্সিটি গুলো।

আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশী ডক্টরেট রয়েছে বাজারে। উপরন্তু বুড়ো প্রফেসররা অনেক দিন ধরে তাদের পদ আঁকড়ে ধরে আছে। তাই নতুন প্রফেসর পদের জন্য ভালো বেতন কিংবা সুযোগ সুবিধাও বেশী দিচ্ছে না ইউনিভার্সিটগুলো।

প্রফেসর পদে চাকুরী পাবার পরও শান্তি নেই। গবেষনার জন্য ফান্ডিং নিয়ে যুদ্ধ এবং টেনিউর পাবার জন্য ক্রমাগত পেপার প্রকাশের দৌড়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয় সদ্য প্রফেসর হওয়া ডক্টরেটদের। তাই দুঃখজনক হলেও পিএইচডি চাকরীর বাজার হিসেবে অ্যাকাডেমিয়া আর অতটা আকর্ষণীয় নয়। [] []

এরপরে রইলো বিভিন্ন গবেষণা সংস্থায় গবেষণার কাজ করা। কিন্তু উচ্চমাত্রায় স্পেশালাইজড এসব গবেষণাগারে অনেক সময় ঐ দেশের নাগরিকত্ব প্রয়োজন হয়। কিংবা সুযোগ এতো অপ্রতুল থাকে যে সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ হাতে আসে না।

ডক্টরেট পাবার পর সাধারণ চাকুরীতে যেতে চাইলেও সমস্যা। একটা ডক্টরেটকে সাধারণতঃ মার্স্টাসের পর তিন থেকে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার সমতুল্য ধরা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি মার্স্টাসের পর তিন থেকে পাঁচ বছর চাকুরী করেছেন তিনি পিএইচডি করে নব্য চাকুরীতে ঢোকা ব্যক্তির সমতুল্য বেতন পাবেন। কিন্তু যেহেতু অভিজ্ঞতা নেই তাই ডক্টরেট ব্যক্তিকে দিয়ে আসলে কোম্পানীর অতটা লাভ হয় না। আর মাস্টার্স করা লোকজনও অপ্রতুল নয়। তাই অনেক ক্ষেত্রেই কোম্পানী ডক্টরেট কে কাজে নিয়োগ দিতে চান না।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে বাস্তব ক্ষেত্রে ডক্টরেট করা লোকের সংখ্যাধিক্যের কারনে, স্পেশালাইজড গবেষণাগারে অভাবে এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারনে ক্যারিয়ার হিসেবে পিএইচডির পথ অনেক বন্ধুর। কিন্তু পিএইচডির আসল লক্ষ্য যেটা – মানব সভ্যতার নেতৃস্থানীয় অবস্থানে গিয়ে গবেষণার মাধ্যমে একে এগিয়ে নেয়া – সেটা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। উপরন্তু, এভরি পিএইচডি ইজ নট ট্রিটেড ইক্যুয়ালি। সুতরাং ভালো বিষয়ে ভালো ইউনিভার্সিট থেকে পিএইচডি করলে স্রোতের বিপরীত চলা সহজ হতে পারে।

এমবিএ – মিডিওকোর বাট অ্যারোগেন্ট
এমবিএ ডিগ্রীর বৈশিষ্ট্য হোলো: জেনারেলাইজেশন। এটি এমন একটি বিষয় যেটা সাধারণভাবে প্রায় সব ধরণের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যায়।

এই জেনারেলাইজেশনটাই হোলো এমবিএর সবচেয়ে বড় শক্তি। চাকুরীর বাজারটা যেমন প্রশস্ত হয় তেমনি নিজের ক্যারিয়ার ট্র্যাক বদলে ভিন্ন দিকে যাবার সুযোগ আসে। এর সাথে সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো বিষয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট, মাস্টার্স বা পিএইচডি থাকলে তো কথাই নেই। এ ধরণের চাকুরী গুলোকে তাই বলা হয় গোল্ডেন কলার জব। []

কিন্তু সমস্যা হোলো এমবিএর এই সুবিধে বুঝতে পেরে প্রচুর ইউনিভার্সিটি এখন এমবিএ ডিগ্রী দিচ্ছে। তাই খুব ভালো কোনো ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ না করলে আর মূল্য নেই তেমন একটা। উপরন্তু প্রতিটা এমবিএ ডিগ্রী পাওয়া মানুষ একে অপরের থেকে আলাদা। তাই, এভরি এমবিএ ইজ নট ট্রিটেড ইক্যুয়ালি আইদার।

এমবিএর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধা হোলো অতি উচ্চ মাত্রার শিক্ষা ব্যয়। বর্তমানে আমেরিকার টপ ইউনিভার্সিটিগুলোতে এমবিএ করতে প্রায় ৫০,০০০ ডলারের (প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা) মতো লাগে। এর মধ্যে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা এবং আনুসঙ্গীক খরচ অর্ন্তভুক্ত নয়। শিক্ষা শেষে ১০০,০০০ ডলারের ঋণ মাথায় নিয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়েছে এরকম ছাত্রের সংখ্যা কম নয়।

এই জেনারেলাইজেশনের আরেকটি অসুবিধা হোলো নিজের পছন্দের বিষয় থেকে সরে গিয়ে ম্যানেজমেন্ট চলে যাওয়া। এতে করে আপনি যে বিষয়ে কাজ করে আনন্দ পেতেন সে বিষয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এমবিএর আরেকটি সুবিধে, উচ্চ মানের বেতন। হরেক রকমের এবং প্রচুর এমবিএ করা লোকের কারনে সেটাও আর অতটা আকর্ষণীয় নেই।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে এমবিএ করে জেনারেলাইজেশনের পিঠে ভিড় করে চাকরীর বৃহত্তর বাজারে ভালো মানের বেতন পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এতে করে নিজের পছন্দের বিষয় থেকে সরে ম্যানেজমেন্টের কাজে ব্যস্ত হয়ে যেতে হবে। উপরন্তু ভালো ইউনিভার্সিটি থেকে ভালো মানের শিক্ষা গ্রহণ না করলে সেই এমবিএর মূল্য নেই। এছাড়া এমবিএ করতে নিজের পকেট থেকে একটা চড়া মূল্যের অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

কেইস স্টাডি – একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের ডিলেমা
বিষয়টি খানিকটা ব্যক্তিগত। তবে কেইস স্টাডি হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়োজন নিজেকেই বলির পাঁঠা হিসেবে বেছে নিলাম। এতে করে আমার নিজের ডিলেমাটার খানিকটা সমাধাণ হতে পারে সে আশাও রয়েছে। 🙂

আমার আন্ডারগ্রাজ্যুয়েট মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ। এরপর একই বিষয়ে মার্স্টাস করেছি আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমার মার্স্টাসের মাইনর ছিলো কম্পিউটার সায়েন্স এবং গবেষণার বিষয় ছিলো কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন। গত তিনবছর যাবৎ আমি একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন এর সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট পদে নিয়োজিত আছি।

কেনো আমি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী? আমি যে পদে নিয়োজিত সে পদে একজন কম্পিউটার বিষয়ে পিএইচডি এবং কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন নিয়োজিত ছিলো। আমি তার সমপরিমান কাজ তো করছিই উপরন্তু আমাদের সফটওয়্যারে আমি আরো কিছু ইনোভেটিভ সমাধান যুক্ত করেছি। অথচ অন্য ডিপার্টমেন্টের কর্মরত একজন কম্পিউটার সায়েন্সে মার্স্টাসের চেয়ে আমার বেতন কম। আমি দ্বিতীয় বারের মতো চাকুরী খুঁজতে গিয়ে বিষয়টা আরো ভালোভাবে অনুভব করলাম। অর্থাৎ সমপরিমান স্কিল থাকার সত্ত্বেও আমার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী এবং আমার এলিয়েন স্ট্যাটাস আমার ক্যারিয়ারের পথে একটা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরপর আমি একটু সামনের দিকে তাকালাম। এভাবে চলতে থাকলে আমি কতদূর আগাবো? দশ বছরে ম্যানেজার, পনের বছরে টেকনিকাল লিড। এইটুকুই।

আল্টিমেটলি আমি কতদূর যেতে চাই? আমার ইচ্ছে ছিলো ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট এন্ট্রিপিনিওরশিপে যুক্ত হবার। একটা লিডিং টেকনোলজি ডেভলপমেন্টের সাথে যুক্ত হবার।

কি করলে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব? যেহেতু কম্পিউটার টেকনোলজিতে আমার থাকার ইচ্ছে তাই কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্সে আরেকটি মার্স্টাস, পিএইচডি নাকি এমবিএ করবো?

কম্পিউটার সায়েন্সে আরেকটি মার্স্টাস করার চেয়ে আরেকটু কষ্ট করে পিএইচডি নিয়ে নেয়াটা বেশী লাভজনক। কিন্তু পিএইচডি সময়সাপেক্ষ ও শ্রম সাপেক্ষ। আর প্রোডাক্ট লিডিং বা এন্ট্রিপিনিওরশিপের জন্য পিএইচডি কতটা সাহায্য করবে সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান। পিএইচডির কল্যানে গবেষণা ও পাবলিশিং একটা বড় প্রাপ্তি। এটা আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও আমার মূল লক্ষ্য মনে করি না।

এমবিএ করলে যে জেনারেলাইজেশনটা হবে সেটা আমাকে প্রোডাক্ট লিডিং বা এন্ট্রিপিনিওরশিপের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে ঠিকই কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রী ছাড়া টেকনিক্যাল বাজারে সেটা কতটা কার্যকরী হবে সেটা প্রশ্নাতীত নয়। এই ডিগ্রীর জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ জোগাড় করা আমার জন্য দুরূহ হয়ে যাবে?

এমবিএ এবং কম্পিউটার সায়েন্সে মার্স্টাস যৌথ ভাবে করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু প্রায় চার বছরের এই শ্রমসাধ্য শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বহন করাটা আরো দুরূহ হয়ে যাবে। কথা হচ্ছে, প্রাপ্তির তুলনায় বিনিয়োগ বেশী হয়ে যাবে কিনা।

এই হোলো আমার ডিলেমা।

আপনার কাছে প্রশ্ন
আপনার শিক্ষা এবং বর্তমান পেশা কি? আপনার ভবিষ্যত লক্ষ্য কি? সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনার পরিকল্পনা কি? আপনি আমার জায়গায় হলে কি করতেন?

উপসংহার
উচ্চ শিক্ষার পথ বেছে নিতে হলে দেখা যায় প্রতিটা মানুষের গল্প স্বতন্ত্র্য। আর প্রতিটা মানুষের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা ভিন্ন বলে ফলাফল ভিন্ন হয়। তাছাড়া এধরনের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না। যার ফলে সিদ্ধান্ত নেয়াটা অনেক সময়ই দুরূহ হয়ে পড়ে।

তাই প্রত্যেকের উচিৎ নিজের লক্ষ্যটাকে নিশ্চিত করে একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেয়া। যদিও নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতেই পারছি বিষয়টা কত অনিশ্চয়তার জন্ম দিতে পারে।

আপনার ভবিষ্যত জীবনের জন্য রইল সমবেদনা এবং শুভকামনা।

2 COMMENTS

  1. আপনার সব লেখা পড়লাম
    চরম লিখছেন
    আমার প্রশ্নঃ ১) দেশে দুই তিন বছর চাকুরী করার পর মাইগ্রেশন করা সম্ভব বা ভাল নাকি বিদেশে মাষ্টার্স করা ভাল? usa, aus, canada সব দেশের কথাই বলছি, মোট সময়ের কথা কথা একটু খেয়াল করবেন দুই ক্ষেত্রেই

    আমি প্রাইভেটে ইইই পড়ছি, ২০১১ এর ডিসেম্বরের মধ্যেই সব শেষ হবে, কোন দিকে ভাল হবে?

    MS করা যেতে পারে Phd সম্ভব না আমার পক্ষে

    ফান্ড পেলে কি টিউশন সহ সব খরচ চালান যায়?

    অসংখ্য ধন্যবাদ এই বিষয়ে লেখার জন্য

  2. এই ডিলেমটা বোধহইয় আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই বেশি। আরো প্রকট হল আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টদের মধ্যে। আমি নিজে এমবিএ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এমবিএ তে ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষার্থীরাই সংখ্যাগুরু। আমি দেশের বাইরে যাইনি, অতএব দেশের বাইরের কথা বলতে পারছিনা। কিন্তু আমার মু যারা দেশেই স্থায়ী হতে চায়, তারা এমবিএ টাকেই কেন যেন বেছে নেন। হতে পারে আমাদের দেশের চাকুরির বাজারে ইঞ্জিনিয়ারদের চেয়ে এমবিএ এর দাম বেশি বলে।

    তবে আমার মনে হয় এটার মূল কারণ হল নিজে কি করতে চাই, কি করতে ভালবাসি, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকাটাই এর মূল কারণ। আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াটা এক ধরণের স্ট্যাটাস স্যম্বল এর মত। কিন্তু আসলে কতজন শিক্ষার্থী নিজের ইচ্ছায় ঠিকমত বুঝে এটা পড়তে আসে? অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা পরিবারের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত। আবার অনেকের হয়ত কম্পিউটার এ পড়ার ইচ্ছা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন সিভিল এ। আমি এরকম অনেক কেই ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি, যারা ভর্তির প্রথম বছর পর্যন্ত নিশ্চিত নয় তারা কি করবেন।

    আমার মতে এই সিদ্ধান্তটা অধিকতর জরুরী যে আমি কোন বিষয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়াশন করব। এখানে যদি আমি সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারি, ত উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সময় এ দ্বিধার পরিমাণ অনেক খানি কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

    ধন্যবাদ লেখককে তার মূল্যবান লেখার জন্য।

তিমুর শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here