বাংলাদেশের শিক্ষা - ছোট
বাংলাদেশের শিক্ষা - ছোট


বয়স্ক সাক্ষরতার গালগল্প (প্রথম পর্ব)

। নয় ।

বয়স্ক সাক্ষরতার একটি কোর্স দু’জায়গায় পরিচালনা জন্য প্রাইমার, সহায়ক অনুসরণিকা, চার্ট, ফ্ল্যাসকার্ড প্রণয়ন/ তৈরি তারপর পরিচালনা এটি সহজসাধ্য কাজ ছিল না। আমরা ব্যবহারিক শিক্ষা কর্মী ছাড়াও এতে ডকুমেন্টেশন ইউনিটের সাথে যুক্ত কর্মীগণ বিশেষ করে প্রকৌশলী এনায়েত ইউএস ইসলাম এবং আহমদ আলী খুবই একাগ্রভাবে সহায়তা করেছেন। আহমদ আলী লিখতেন এবং শিল্পীকে সহায়তা করতেন, আর প্রিন্টের কাজ করতেন এনায়েত। প্রথমদিকে অবশ্য তাঁর কর্মসূচির প্রধান ছিলেন সহস্রাংসু গুপ্তা এবং তিনিও এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিদিন একদিনের পাঠের ৫০ কপি উপকরণ প্রিন্টিং শেষে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ছিল অনেক কাজ (কলেটিং, পিন লাগানো, ফ্ল্যাসকার্ড কাঁচি দিয়ে আলাদাকরণ ইত্যাদি) ব্যবহারিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের কর্মীগণ করতেন। উপকরণ উন্নয়নের সময় কিংবা ছাপানোর সময় এফআইভিডিবি’র নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমেদ এমনভাবে খোঁজখবর রাখতেন যে তাঁকে আমরা এ টিমের সদস্যই মনে করতাম।

ব্যবহারিক সাক্ষরতার কারিকুলাম নির্ধারণের জন্য আমরা এফআইভিডিবিএর সেবাগ্রহণকারী এবং মাঠকর্মীদের নিয়ে কয়েক দফা কর্মশালা সম্পাদন করেছি। এর ভিত্তিতে কৃষি, স্বাস্থ্য, মহাজনী শোষণ থেকে মুক্তি, সংগঠন, সঞ্চয় ও ঋণ, নারী নির্যাতনরোধ, বিবাহ ও তালাক আইন, যৌতুকের ভয়াবহতা, মা ও শিশুর যত্ন এবং চিঠি লেখার প্রয়োজনীয়তাসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় নির্ধারণ করা হয়। কীভাবে বিষয়ান্তরে যেতে হবে এবং কোন পাঠে কোন শব্দ আসবে তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করতে হতো। প্রথম একটি পড়া পূর্ব বাক্য (Pre-reading lesson) দিয়ে আমরা শুরু করেছি। তিন শব্দের একটি বাক্যের প্রতিটি শব্দের ফ্ল্যাসকার্ড দেখিয়ে অংশগ্রহণকারীদের শব্দের দৃষ্টি পরিচিতি সাধন করা হয়েছে। এ তিনটি শব্দকে চারটি লাইনে বিভিন্নভাবে সাজিয়ে পাঠ তৈরি করা হয়েছে। একেকটি শব্দের ফ্ল্যাসকার্ড দেখে তারা বইয়ে এগুলো চিহ্নিত করতেন। তারপর প্রত্যেক শিক্ষার্থী এক লাইন করে পড়তেন। বর্ণ পরিচিতির আগেই বারবার অনুশীলন দ্বারা শব্দ পড়াটা সম্ভব হতো, কিন্তু শব্দ পড়ানো এ পাঠের উদ্দেশ্য নয়। বাংলা পড়তে হয় ডান থেকে বামে আর এক লাইন শেষ করে আবার বাম থেকে আরেক লাইনে যেতে হয় এ নিয়মগুলো আয়ত্ব করানোই পড়া পূর্ব পাঠের উদ্দেশ্য। প্রত্যেক পাঠের এ উদ্দেশ্য সহায়ক অনুসরণিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতো।


এখানে পুনরায় উল্লেখ প্রয়োজন যে, প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা কমপক্ষে ৩০ মিনিট কোনো একটি বিষয়ে সুসংগঠিত আলাপ আলোচনা করেন। আলাপ আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকাই থাকে মুখ্য। ৩০ মিনিট পড়ার জন্য, ২০ মিনিট হিসাবের জন্য। আর ১০ মিনিট পুনরালোচনার জন্য। যেমন প্রথম দিনের আলোচনায় কে কী কাজ করেন, কাজের সমস্যা কী তা দলে আলোচনা করেন। প্রতি দলের একজন উপস্থাপন করেন। তারপর একটি সিদ্ধান্তের প্রশ্ন আসে যে, তারা যদি এতো সব কিছু করতে পারেন তবে তাদের অশিক্ষিত বলা যায় কি না। প্রতিদিনের আলোচনায় এমনিভাবে অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতার স্তরের উন্নয়ন হয়। প্রথম পাঠের পর কয়েকটি পাঠে শব্দ থেকে বর্ণ বা চিহ্নের পরিচয় করানো হয়। পরবর্তীতে সমগ্র কোর্সটি এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে যে প্রতি পাঠে ছবির ওপর আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটি বাক্যে প্রবেশ করতে পারেন। ঐ বাক্যের কোনো একটি শব্দ থেকে পরিচয় করানো হয় নতুন বর্ণ বা চিহ্ন। একটি পাঠে গড়ে একটি বর্ণ / চিহ্নের সাথে পরিচয় করানো হয়। আর পাঠের পড়ার অংশ এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, কোনো পাঠেই গড়ে ৫টির বেশি নতুন শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। আর যে নতুন শব্দ পরিচয় করানো হয় সেগুলো ঐ পাঠে কমপক্ষে ৫ বার ব্যবহার করা হয়। এ নিয়মটি নিশ্চিত করার ফলে শিক্ষার্থীর পড়ার গতি ধীর হয় না যার ফলে যা পড়েন তিনি তা বুঝতে পারেন।

। দশ ।


আমাদের পরীক্ষামূলক পরিচালনা শেষ হলো দুটো কেন্দ্রে। এবার বড় আকারের পাইলটিং। এফআইভিডিবি তখন তিনটি গ্রামকেন্দ্র পরিচালনা করতো। প্রতিটি গ্রামকেন্দ্রে জনা দশেক আবাসিক কর্মী থাকতেন। গ্রামকেন্দ্রগুলো ক্লাস্টার নামে পরিচিত ছিল। প্রত্যেক ক্লাস্টারে কিছু কর্মী স্থানীয়ভিত্তিতে নিয়োগ পেতেন। ক্লাস্টার কর্মীগণ তিন গ্রামকেন্দ্রে ২৯টি বয়স্ক শিক্ষাদল গঠন করলেন। পুরুষ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ২০ জন করে আর নারী ১৫ থেকে ২০। লেখাপড়া পরিচালনার জন্য দরিদ্র পরিবারগুলোর অপেক্ষাকৃত ভালো ঘর নির্বাচন করা হলো। অনেক ক্ষেত্রেই এরকম ঘর হতো তাদের ঘুমানোর ঘর। ঐ ঘরে শিক্ষার্থীরাই চাটাই মাদুর নিয়ে আসতেন। বয়স্ক শিক্ষা পরিচালনার জন্য সহায়কদের পদবী হলো সেবক/সেবিকা। তাঁদের জন্য সংস্থা থেকে সম্মানী মাসে ৮০ টাকা । বলা হলো সেবকসেবিকাগণ স্বেচ্ছাসেবক এবং পাঠ পরিচালনার জন্য তারা কোনো অর্থ পাচ্ছেন না। সম্মানী পাচ্ছেন সংস্থার জন্য প্রতিবেদন প্রণয়ন, সভায় উপস্থিতি এসব কারণে। ঐ সময় এফআইভিডিবি যে এলাকায় কাজ করতো সেখানে মধ্যবিত্ত পরিবারে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন এমন নারী পাওয়া দুষ্কর ছিলো। আর মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী এরকম কাজে আসতেও চাইতেন না। তাই আমাদের এমনসব সেবিকাই নিতে হয়েছে যাঁরা সহায়ক অনুসরণিকা বইটি পড়তে পারতেন। পুরুষদের বেলায় খুব কষ্টে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া জানা সেবক সংগ্রহ করা গিয়েছে। তাই গ্রামীণ মসজিদের কিছু ইমামও যোগ দেন। এমন কি একটি নারী শিক্ষা দলে সেবিকার অভাবে একজন পুরুষ সেবক কাজ করেন।


আমরা খাদিমনগরে অবস্থিত তৎকালীন প্রতিষ্ঠান আরডিটিআই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ২৯ জন সেবক সেবিকার প্রশিক্ষণের আয়োজন করি। এঁদের বেশির ভাগেরই কোনো ধরনের প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না। আইভিএস (এফআইভিডিবি প্রতিষ্ঠার আগে কর্মরত আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা) পরিচালিত কিছু প্রশিক্ষণে কয়েকজন আগে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। জেমস জেনিংস ও আমি মূল প্রশিক্ষণ পরিচালনা করলাম। তবে কৃষি, স্বাস্থ্য, সমবায়সহ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য এফআইভিডিবি’র অন্য এক্সপার্টগণও ক্লাস নিয়েছেন।


জেমস ঠিক করলেন সকল শিক্ষার্থীর একটা প্রিটেস্ট নিতে হবে যেন আমরা তাদের বর্তমান অবস্থান দিয়ে একটি বেজলাইন ডাটা রাখতে পারি। খুব কঠিন কাজ। পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারীর প্রত্যেককে এটি করতে হবে। তাঁদের কেউ যদি কয়েকটি বর্ণও পড়তে পারেন বা সংখ্যা চেনেন তা লিপিবদ্ধ করতে হবে। আলোচনার বিষয়গুলো থেকে ১০টি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। জেমসের সাথে আমি শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রিটেস্ট নিয়েছিলাম। আমার জীবনে এতো ধৈর্য নিয়ে কাজ করার কোনো নজির নেই। একটি পদ্ধতির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে এসব করতে হয়েছে। আমাদের গ্রামকেন্দ্র কর্মীগণ প্রথমে আমাদের তথা জেমসের পরিচালনা থেকে শিখেছেন তারপর তাঁরা প্রি টেস্টিং করে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করেছেন। এরকম ধৈর্য ধরে কাজ করতে গিয়ে সাময়িকভাবে তাঁরা আমাদের আপদই মনে করেছেন।


প্রি টেস্টের ফলাফল থেকে দেখা যায় যে ১০ শতাংশের মতো পুরুষ আগে স্কুলে গিয়েছেন, কিন্তু কিছু বর্ণ ছাড়া আর কিছুই শেখেননি। তবে তাঁরা সংখ্যা লিখতে পারেন। তবে নারীদের মধ্যে এটি ছিল না বললেই চলে। ব্যবহারিক (আলোচনার অংশ) দিকের প্রি টেস্টিংয়ে আমরা অদ্ভূত সব উত্তরের সাথে পরিচিত হই। যেমন বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বলেছেন মাছ খেলে কৃমি হয়, ডায়রিয়া হলে মৌলবী সাহেবের পানিপড়া খাওয়াতে হয়, যৌতুকতো ছেলের অধিকার, বুকের দুধ শুধু গরিবেরাই খাওয়ায়, মহাজন শোষন করে না বরং রক্ষা করে।


এসব শিক্ষা দলে পূর্ণ ছয় মাস পাঠ পরিচালনা করা হয়েছে। এরপর আমরা তাদের সমাপনী পরীক্ষা নিয়েছি। ঐ যাচাই নেওয়া এবং প্রি টেস্টিং এর সাথে তুলনার মাধ্যমেই এফআইভিডিবি’র বয়স্ক সাক্ষরতা পদ্ধতি একটি শক্ত ভিত্তি পায়।

। এগারো ।


সাক্ষরতার প্রসঙ্গ এলেই লেখাপড়া শুরুর বিষয়টি অনিবার্যভাবে এস পড়ে। এ বিষয়ে সেবক সেবিকাদের প্রশিক্ষণে পরিপূর্ণ ধারণা দিয়ে যথেষ্ট অনুশীলন করানো হতো। কে কীভাবে লেখাপড়া শিখেছেন তা নিয়ে সেবক সেবিকাদের বলা হতো তাঁরা যেন নিজেদের জীবনের বাল্যকালে শিক্ষার এ বিষয়টি চিন্তা করে বলেন। দেখা যেত, প্রায় সবাই বলেছেন , তাঁরা ’স্বরে অ’ ‘স্বরে আ’ থেকে ‘চন্দ্রবিন্দু’ পর্যন্ত প্রথমে শিখেছেন, এরপর কার, ফলা এসব। এমনিভাবে পড়া শেখা পর্যন্ত দেড় থেকে দু’বছর লেগেছে। প্রথম শ্রেণিতে হয়তো ৪০ জন লেখাপড়া শুরু করেছেন, বর্ণ শিখতে পারার আগেই ১৫ জন ঝরে পড়েছেন। বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতি (Alphabetic Method) নিয়ে তখন চুলচেরা বিশ্লেষণ হতো। বর্ণানুক্রমিক এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর নিকট কোনো আকর্ষণ থাকে না, মুখস্থ করে শেখা তারপর আবার ভুলে যাওয়া কিংবা মুখস্থ পারলেও স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করতে না পারা, কিংবা বর্ণ চিনলেও শব্দে এর প্রয়োগ করতে না পারা এসব সমস্যাগুলো চিহ্নিত হতো। বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে শেখার দীর্ঘসূত্রিতা, আকর্ষণহীনতা এবং পারিবারিক সহায়তা ছাড়া পড়তে শেখা পর্যন্ত এগুনো যায় না সেসব বিষয়ে তাঁরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছতেন। এরপর প্রশিক্ষক অন্যান্য পদ্ধতিগুলো তুলে ধরতেন। কোনো বর্ণ প্রচলিতভাবে উচ্চারণ না করে এর উচ্চারণ শেখালে কী লাভ হয় এ নিয়ে আলোচনা হতো। এরকম পদ্ধতি যে উচ্চারণ পদ্ধতি (Phonetic Method) সে বিষয়ে তাদের ধারণা জন্মাত। ছবি ও উচ্চারণের সমন্বয় পদ্ধতি (Psycho Phonetic) কী সুবিধা দেয় তাও আলোচনায় স্থান পেতো। বর্ণমালা শেখায় শব্দ পদ্ধতি (Entire Word Method) এবং বাক্য পদ্ধতির (Entire Sentence Method) নিয়ে এমনভাবে আলোচনা হতো যাতে সেবকসেবিকাগণ নিজেদের জীবনের মুখস্থ করে শেখার প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সাক্ষরতা পদ্ধতির সাথে পরিচিত হতে পারেন। এফআইভিডিবি পদ্ধতি এগুলোর ভালো দিকগুলোর সমন্বয়ে সৃষ্ট একটি মিশ্র পদ্ধতি (Eclectic Method)


এফআইভিডিবি পদ্ধতিতে ছবি থেকে বাক্য, বাক্য থেকে শব্দ , শব্দ থেকে শব্দাংশ এবং সবশেষে বর্ণ ও চিহ্নের সাথে পরিচয় করানো। শিক্ষার্থীগণ প্রচলিত নাম না শিখে বর্ণকে তার উচ্চারণ দ্বারা শনাক্ত করেন। এ খানে দন্ত্য অংশ বাদ দিয়ে উচ্চারণ করা হয়। আবার চিহ্নগুলোকেও শুধু পরিচয় করানোর সময় উচ্চারণ দেখানো হয়, এরপর থেকে বর্ণ ও চিহ্ন মিলে যে শব্দাংশ (Syllable) হয় তা চর্চা করানোর মাধ্যমে শেখানো হয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা সিলেবল চর্চা করে শব্দ ভাঙার প্রয়োজন হলে সিলেবল দিয়ে ভাঙেন যার ফলে যেকোনো শব্দ উচ্চারণ সহজতর হয়। যেমন ‘পানি’ শব্দটি তিনি গতানুগতিকভাবে পএ আকার পা দন্ত্য ন আকার নি এভাবে দেখেন না। প্রথমত তিনি এটি বানান ছাড়াই পড়বেন। আর যদি পূর্ণ শব্দটি পড়তে না পারেন তখন পা নি পানি এমনভাবে পড়তে পারেন। এটি পড়ার গতিকে বোধগম্যতার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক।


বর্ণকে প্রচলিত নামে না শেখায় কোনো অসুবিধা হয় না। তারা যখন ‘দন্ত্য স’ এর সাথে পরিচিত হন এটি ‘স’ বলেন এবং মূর্ধণ্য ষ শেখায় একই উচ্চারণ করেন। আর লেখার সময় কোনটি কোথায় ব্যবহার করবেন তা হলো সম্পূর্ণ অনুশীলনের বিষয়।


এফআইভিডিবি পদ্ধতি দ্বারা ৮০ টি অধিবেশন বা তিন মাস সময়ের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী যুক্তাক্ষরবিহীন শব্দের দ্বারা তৈরি বাক্য পড়তে পারেন। যদি ঐ শব্দগুলো তাদের পড়ার বইয়ের মধ্য থেকে হয় তা হলে না আটকে পড়তে পারবেন। আর শতকরা ২০ ভাগের নিচে নতুন শব্দ ব্যবহার করে তৈরি বাক্য হয় তা হলে কিছু আটকে শব্দাংশ ভাঙার মাধ্যমে পড়তে পারবেন। তবে এখানে উল্লেখ প্রয়োজন যে, এ ক্ষেত্রে একটি শব্দের গঠনে বর্ণ চিহ্ন মিলে ৫ টির বেশি হবে না বা একেকটি বাক্যের দৈর্ঘ্য ঐ সময় পর্যন্ত গড়ে ৫ টির বেশি হবে না। ঐ সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীগণ পড়তে পারার প্রায় ৭০% বাক্য লিখতেও সমর্থ হন। আর তারা ৫০ পর্যন্ত সংখ্যার মধ্যেকার যোগ বিয়োগের সমাধান করতে পারেন।

। বারো ।

বিস্তৃত আকারে মাঠ পরীক্ষাকে সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য তিনটি গ্রামকেন্দ্রের (ক্লাস্টার) প্রতিটিতে একজন ব্যবহারিক শিক্ষা কর্মী নিয়োগ করা হয়। এফআইভিডিবিতে এর আগে আলাদা করে কর্মসূচির জন্য কোনো কর্মী ছিলেন না। সবাই ছিলেন মাল্টিপারপাস ওয়ার্কার।ব্যবহারিক শিক্ষা কর্মীগণ সেবকসেবিকাদের সঙ্গে পুরো দশ দিন আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সুপারভিশনের জন্য আরো তিন দিন প্রশিক্ষণ পেলেন। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার প্রতিটি শিক্ষা দল পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সেবকসেবিকাগণ কোনো সমস্যায় পড়লে বা নিয়ম অনুযায়ী পদ্ধতি অনুসরণ করতে না পারলে তাঁকে সহায়তার দায়িত্ব এ কর্মী পালন করতেন। আমরা একটি সহজ মনিটরিং ফরম তৈরি করলাম। ওটাতে আলোচনা, পড়া, লেখা হিসাব এ চারটির কোনটিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীর কতজন ভালো, কতজন মোটামুটি এবং কতজন ভালো করতে পারছেন না তা প্রতি সপ্তাহে উল্লেখ করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হতো। এ অনুযায়ী সেবকসেবিকাদের মাসিক রিফ্রেশার্স একদিন করে গ্রামকেন্দ্রে পরিচালনা করা হতো। ব্যবহারিক শিক্ষা কর্মীগণ দিনে নারী শিক্ষা দলে, রাতে পুরুষ শিক্ষা দলে গিয়ে পূর্ণ সময়ের জন্য পাঠ পরিচালনা পর্যবেক্ষণ করতেন। রাতেও নারীদের দুটো শিক্ষা দল ছিল এবং এগুলো পরিচালিত হতো চা বাগানে। এখানে উল্লেখ প্রয়োজন যে, চা বাগানে শিক্ষা বা অন্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনার আগে মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হতো (এবং এখনো লাগে) এবং প্রায়ক্ষেত্রে এটি পাওয়া যায় না।


জেমস এবং আমি মাসে একবার যাতে প্রতিটি কেন্দ্র দেখতে পারি সেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম। ১৯৮১৮২ সালের ঐ সময়টাতে গ্রামীণ যোগাযোগ ছিলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাঁটার পথ। গ্রামকেন্দ্র পর্যন্ত কোনোভাবে মোটর সাইকেলে গিয়ে তারপর হাঁটার মধ্যে কাটাতে হতো সারাদিন। গ্রামের পথগুলো বর্ষায় কর্দমাক্ত এবং স্যানিটারি লেট্টিন ব্যবস্থা তখন ছিল না বলে অনেক রাস্তায় কাদার সাথে একাকার হয়ে থাকতো পায়খানা থেকে নেমে আসা ময়লার মিশ্রণ। আমাদের আনন্দ ছিল এ পদ্ধতির মাধ্যমে বয়স্কদের শিখনের পারঙ্গমতা প্রত্যক্ষ করে। প্রতি শিক্ষা দলে এক’দু জন থাকতেন যাঁরা লেখাপড়ায় কেবলমাত্র নিজের নাম, গ্রামের নাম অবদি যেতে পারতেন, কিন্তু আলাপ আলোচনায় অনেক এগিয়ে থাকতেন। এরকম অবস্থাকে আমরা খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখতাম এবং কোনোভাবে তাঁরা যেন নিরুৎসাহিত বা লেখাপড়া কম শেখার জন্য কারো কাছে হেয় না হন তা নিশ্চিত করতাম।


এসব শিক্ষা দলে দেশী বিদেশী পরিদর্শক যেতেন। তাঁদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকেতো যেন তারা শুধু দেখেন, যাচাই না করেন। এটি করা হতো এজন্য যে, পরিদর্শকদের অনেকে চাইতেন কিছু পড়া বানান করে পড়ুক বা প্রচলিত নামে বর্ণ উল্লেখ করুক যা আমাদের পদ্ধতির সঙ্গে যায় না।


ব্যবহারিক শিক্ষা প্রাইমার তিন খণ্ডে বিভক্ত ছিলো। প্রথম খণ্ডে ২১ পাঠ শেষ করতে লাগতো ২৯টি অধিবেশন, দ্বিতীয়টিতে ১৯ পাঠের জন্য ৩৮ অধিবেশন এবং তৃতীয়টিতে ২০ পাঠ যা শেষ করতে লাগতো ৪০ অধিবেশন। প্রতি প্রাইমারে শেষে একটি যাচাই সম্পাদন করা হতো। ঐ যাচাই ব্যবহারিক শিক্ষা কর্মী সম্পাদন করে প্রতিবেদন তৈরি করতেন।


প্রতি পাঠে নতুন পরিচয় করানো বর্ণ , চিহ্ণ ও শব্দের ফ্ল্যাশকার্ড ছিলো যা প্রত্যেক প্রাইমারের জন্য আলাদা সেট করা থাকতো। প্রত্যেক ফ্ল্যাশকার্ডে পাঠ নম্বর দ্বারা চিহ্নিত থাকতো। সেবক সেবিকা পাঠ অনুযায়ী কাঁচি দিয়ে এগুলো আলাদা করতেন। ফ্ল্যাশকার্ডগুলোতে ফন্ট সাইজ থাকতো ৯৬। ফ্ল্যাশকার্ড সেবক সেবিকা সমগ্র দলে দেখাতেন, আবার প্রত্যেকের কাছে গিয়ে উল্টাপাল্টা করে যাচাই করতেন। প্রতি পাঠের শেষে পড়ার একটি বিস্তৃত অংশ দু’জন করে শিক্ষার্থীরা পড়তেন। ঐ সময় তাঁরা কেউ আটকে গেলে পুনরায় ফ্ল্যাশকার্ড দেখে স্মরণে আনতেন। আর প্রতি পাঠের জন্য ছিলো একটি বড় আকারের চার্ট। এটি প্রতিদিন আলোচনা শুরু করার সময় একবার এবং বাক্য থেকে শব্দ , শব্দ থেকে বর্ণ বা চিহ্ন শেখানোর সময় আরেকবার সমগ্র দলকে উদ্দেশ্য করে ব্যবহৃত হতো। আর সেবক সেবিকা সহায়ক অনুসরণিকা অনুসরণ করে পাঠ পরিচালনা করতেন।

। তেরো ।


প্রথম চার মাসের মধ্যে বয়স্ক শিক্ষার্থীগণ সকল বর্ণ চিহ্নের সঙ্গে পরিচিত হন। তাই পড়ার মৌলিক ধাপটি সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে তারা যুক্তাক্ষর ছাড়া চিঠি লেখার সাথেও পরিচিত হন। এ অবস্থাকে সুদৃঢ় করা এবং যুক্তাক্ষর সম্বলিত শব্দের সঙ্গে পরিচিতির জন্য তৃতীয় প্রাইমার প্রণয়ন করা হয়। প্রথম প্রাইমারে হরফের সাইজ ২৪ পয়েন্ট পর্যন্ত, দ্বিতীয় প্রাইমারে তা ২২ পয়েন্ট পর্যন্ত রাখা হয়। কিন্তু তৃতীয় প্রাইমারে এসে হরফের ফন্ট সাইজ শিরোনামের জন্য বড় এবং পড়ার অংশে ১৬ পয়েন্টে নামিয়ে আনা হয়উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রমে মূল ধারার বইপত্রের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা। এ প্রাইমার অনুচ্ছেদভিত্তিক নিবন্ধ দিয়ে সাজানো। নিবন্ধগুলো ক্রমান্বয়ে বড় করা হয়। শুরুটা করা হয় গড়ে পাঁচ শব্দের বাক্য এবং পাঁচ থেকে সাত বাক্যের অনুচ্ছেদ দিয়ে। প্রথম দুটি প্রাইমারের পড়ার অংশ প্রশ্ন এবং উত্তর এরকম সংলাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীগণ জোড়ায় জোড়ায় পড়তেন। তৃতীয় প্রাইমার পঠনের জন্য সমগ্র দলকে চারটি দলে ভাগ করা হতো। প্রত্যেক দল সমগ্র অংশটি একে একে পড়তেন। সেবক/সেবিকা দলে গিয়ে প্রত্যেককে এক লাইন করে পড়তে দিয়ে যাচাই করতেন।


শেষ দু’মাসে তৃতীয় প্রাইমার পরিচালনার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো আলাপ আলোচনার সাথে পড়ার সমন্বয়। এর আগে যেহেতু পড়তে পাড়ার ক্ষমতা কম ছিলো, তাই আলাপ আলোচনার মূল বিষয় পড়ার অংশে আনা গেলেও ব্যাপকভাবে তা করা যায়নি। এবার আলোচনার অংশের বেশিরভাগ বিষয় পড়ায়ও স্থান দেওয়া সম্ভব হলো। যেমন আগে ডায়রিয়ার চিকিৎসায় লবণগুড়ের সরবত বানানো ছবি ও আলোচনার মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে। তৃতীয় বইয়ে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তাঁরা পড়তেও সামর্থ্য হলেন। অন্য কথায় বলা যায় পড়ার দক্ষতা যত বেড়েছে ব্যবহারিক ও লেখাপড়ার মধ্যে সমন্বয় ততো বেড়েছে।


সেবকসেবিকা প্রশিক্ষণে ব্যবহারিক লেখাপড়া উপকরণসমূহের পরিচিতি এবং এগুলোর ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতো। প্রশিক্ষণের চতুর্থ দিন থেকে পাঠ পরিচালন প্রদর্শন ও অনুশীলন ছিলো ৬০ ভাগ। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী যাতে নিজের দল সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ দ্বারা চালাতে সমর্থ হন তা প্রশিক্ষণকালীন সময়েই নিশ্চিত করা হতো। যে কয়েকজনকে দুর্বল মনে হয়েছে তাঁদেরকে গ্রামকেন্দ্র ব্যবহারিক শিক্ষাকর্মী পরবর্তীতে আরো সহায়তা প্রদান করতেন।


তৃতীয় পাঠ সফলভাবে সমাপনের পর ২৯টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে যাচাই পরিচালনা করা হয়। এজন্য ৪টি অংশ নির্ধারণ করা হয়। ব্যবহারিক বিষয়ের ওপর ৫টি প্রশ্ন (মৌখিক)। এর জন্য ছিলো ৫০ নম্বর। পড়ার জন্য ৫০ নম্বর, লেখার জন্য ৩০ এবং হিসাবের জন্য ২০। আমরা ১৯৮১ সালের সেপ্টেম্বরে শিক্ষাদলগুলো শুরু করেছিলাম এবং ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এগুলো পরিচালিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষভাগে তাদের সমাপনী যাচাই নেওয়া হয়। তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এ যাচাই পরীক্ষার মতো নয় । এতে পাশ ফেল নেই এবং তাঁরা সংস্থার মূল্যায়নে সহায়তা করছেন। তাই এ কাজটি করার জন্য তাদেরকে কিছু উপহার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। যাচাইয়ে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সংস্থা থেকে আমরা ৪টি করে হাঁসের বাচ্চা পাওয়ার ব্যবস্থা করি। উল্লেখ্য, ঐ সময় এফআইভিডিবি খাঁকি ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা ব্যাপক সংখ্যায় ফোটাতো। বিনা বিদ্যুতে তুষের সাহায্যে হাঁসের বাচ্চা ফোটানো এবং হাঁস চাষ বিস্তৃত করায় এফআইভিডিবি’র সুখ্যাতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

। চৌদ্দ ।


পড়ার গতি (Fluency) নিয়ে গত এক দশক যাবৎ অনেকেই কাজ করছেন, বেশ কিছু গবেষণাও পরিচালিত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন কিছু সংস্থাকে পার্টনার করে READ নামে একটি প্রকল্পই চালাচ্ছে, আর Room To Read (RTR) এ এই বিষয়ে বিশেষায়িত কাজ হচ্ছে। এগুলো সবই হচ্ছে মূলধারার প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে। আমরা ১৯৮০ এর দশকে বয়স্ক সাক্ষরতার পড়ার অংশ মূল্যায়নে প্রায় দৃষ্টান্তবিহীন অবস্থায় কাজ করেছি। এক্ষেত্রে জেমস জেনিংসের জ্ঞান ও ধৈর্য ছিল আমদের শেখার একমাত্র উৎস। ছ’মাসের কোর্স মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এর বিবরণ দিচ্ছি।


ব্যবহারিক লেখাপড়া কোর্স মূল্যায়নের ভিত্তি ছিল প্রি টেস্টিংএর প্রশ্নমালা। দুই পৃষ্ঠায় লম্বা সাইজের কাগজে হস্ত লিখন ছাপিয়ে প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছিল। প্রশ্নে ছিল পড়া এবং লেখার অংশ। প্রথম পৃষ্ঠায় লিখতে পাড়ার দক্ষতা যাচাই। প্রথমে ঠিকানা লেখার জন্য নাম, গ্রামের নাম, ইউনিয়ন, ডাকঘর, জেলা ও দেশ। এজন্য নম্বর ১২। এরপর চিঠি লেখার জন্য স্পেস। দ্বিতীয় পৃষ্ঠার প্রথমে পড়ার একটি অংশ। তারপর ব্যবহারিক বিষয় থেকে ৫টি প্রশ্ন। সবশেষে যোগ ও বিয়োগের দুটো করে অঙ্ক।


দু’জনে মিলে একটি দলে এ যাচাই নিতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগতো। শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে তাঁদের হাতে প্রশ্ন দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হতো যে, তাঁরা লিখতে থাকবেন এবং ঐ সময় একজন একজন করে ঘরের এক কোণায় বসা আমাদের কাছে পড়া ও বলার যাচাইয়ের জন্য যেতে হবে। ঐ সময় যেন অন্যরা লেখার মধ্যে থাকেন তা বলে দেওয়া হতো।


পড়ার অংশে ছিল ৫০ টি শব্দের একটি অংশ। এ শব্দগুলো প্রাইমার থেকে নেওয়া, কিন্তু বাক্যগুলো সরাসরি বই থেকে নেওয়া হয়নি। দশটি বাক্যের প্রথম তিনটি প্রথম প্রাইমরের মাঝের তিনটি দ্বিতীয় প্রাইমারের এবং শেষ চারটি তৃতীয় প্রাইমারের শব্দ দ্বারা তৈরি করা ছিলো। একেকজন শিক্ষার্থী যখন পড়া ও বলা যাচাইয়ের জন্য আসতেন তখন তাদের কাছে থাকা প্রশ্নটি আমরা নিতাম এবং তাদেরকে পড়তে দিতাম আমাদের কাছে থাকা পড়ার অংশ। যখন একজন পড়তেন আমরা তাঁর প্রশ্নে মার্কিং করতাম। তিনি যে শব্দ অনায়াসে পড়তে পারতেন সেখানে কোনো মার্ক ছিল না। কেউ একটি শব্দ সময় নিয়ে পড়লে ঐ শব্দের ওপর x এবং আদৌ পড়তে না পারলে xx দিতাম। পরবর্তীতে পূর্ণ খাতাটি মূল্যায়নের সময় ৫০ থেকে সব x চিহ্ণ বাদ দিয়ে পড়ার নম্বর নির্ধারণ করা হতো। পড়া নেওয়ার পর ব্যবহারিক আলোচনার প্রশ্নগুলো করে সেখানে প্রয়োজনীয় নম্বর প্রদান করা হতো। এরপর শিক্ষার্থী আবার নিজ জায়গায় গিয়ে লিখতেন। সবশেষে পরের পৃষ্ঠার সব নিচে থাকা অঙ্কগুলো করতে বলা হতো।


পড়া ,লেখা, হিসাব এবং ব্যবহারিক জ্ঞানপ্রতিটির আলাদা নম্বর গ্রন্থনা করা হতো। লেখায় ৩০ এর মধ্যে ২১৩০ ভালো, ১৩ থেকে ২০ মোটামুটি এবং ০ থেকে ১২ পর্যন্ত নম্বরকে সন্তোষজনক নয় বলে চিহ্ণিত করা হতো। পড়ার ক্ষেত্রে তা ছিলো যথাক্রমে ৪১৫০, ২৬৪১ এবং ০ থেকে ২৫। আর হিসাবের ক্ষেত্রে তা ১৫২০, ১০১৫ এবং ০ থেকে ৫। আর ব্যবহারিক জ্ঞানের ৫০ নম্বরের মধ্যে ভালো ৪০৫০, মোটামুটি ২০৩০ এবং সন্তোষজনক নয় ০ থেকে ১০। বলাবাহুল্য এসব ফলাফলের কিছুই শিক্ষার্থীদের জানানো হতো না। এসব ফলাফল সারণিবদ্ধ করে গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীর অবস্থান নির্ণয় করার ফলে পরবর্তী কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণে সক্ষমতার স্তর নিরূপণ করা গিয়েছে।


যাচাই গ্রহণের জন্য এমনভাবে ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হয়েছে যে সর্বত্র যেন একই পরিমাপ ব্যবহার সম্ভব হয়। পড়ার অংশ যে সব সময় প্রথম লাইন থেকে শুরু করা হয়েছে এমন নয়। তথাপি কিছু কিছু একজনের লেখা দেখে অন্যজনের লেখা থেকে বিরত রাখা যায়নি। বিশেষ করে হিসাবের অংশে।


১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে এ যাচাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ২৯টি শিক্ষা দলের দুই তৃতীয়াংশই ছিল নারী শিক্ষার্থীদের দল আর তাঁদের ড্রপআউট ছিল পুরুষের চেয়ে অনেক কম।

। পনের ।


শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে পড়া, লেখা ও হিসাব এ তিনটির মোট নম্বর ১০০ হলেও আমরা তিনটিকে আলাদা ভাগ করে সারণিবদ্ধ করি। আর পৃথকভাবে ব্যবহারিক (মৌখিক) অংশকে গ্রন্থিত করা হয়। প্রায় ৪০০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে বোধগম্যতার সঙ্গে প্রায় সবই সঠিক পড়তে পেরেছেন শতকরা প্রায় ৭০ জন, বানান এবং মোটামুটি বোধগম্যতার সঙ্গে পড়তে পেরেছেন প্রায় ২০ শতাংশ, আর শতকরা ১০ জন প্রথম দিককার শব্দ পারেন , বর্ণ চিনেন কিন্তু পড়তে পারেন না। লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা হেরফের ছাড়া প্রায় অনুরূপ ছিল। শতকরা ৯০ জন নাম ঠিকানার অংশটি লিখতে পেরেছেন। চিঠি লিখতে পেরেছেন প্রায় ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী। হিসাবের বেলায় শতকরা ৯০ জনই ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে পড়েন আর বাকি সবাই ‘সন্তোষজনক নয়‘ পর্যায়ে। ব্যবহারিক আলোচনায় ভালো , মোটামুটি ও সন্তোষজনক পর্যায়ে ছিলেন যথাক্রমে ৬০, ৩০ ও ১০ এবং লেখাপড়ায় ভালো বা মোটামুটি পর্যায়েও ছিলেন না এমন অনেকেই এখানে খুব ভালো করেছেন। [ এখানে যে পরিসংখ্যান দিলাম তা স্মরণের ওপর নির্ভর করে , তবে তা প্রকৃত ফলের খুব কাছাকাছি বলে আমার স্থির বিশ্বাস)


এফআইভিডিবি কর্তৃক ব্যাপকভিত্তিক এ পরীক্ষণ থেকে অনেক দিকই নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়। যেমন একটি বয়স্ক শিক্ষা দল গঠন করতে কত দিন যাবৎ যোগাযোগ করতে হবে, যোগাযোগের ধরন কী হবে, কতজন দিয়ে বয়স্ক শিক্ষা দল গঠন করা যাবে, বছরের কোন সময়টি বয়স্ক শিক্ষা পরিচালনার জন্য উত্তম ইত্যাদি। যেসব দল অপেক্ষাকৃত খারাপ করেছে তাদের দল সংগঠনে ত্রুটি থাকায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি যথাযথ ছিলো না বা সেবক/ সেবিকার দায়বদ্ধতা কম ছিলো। পুরুষ দলে ২০ জন দিয়ে শুরু করা গেলেও নারী দলে অনেকেই শিশু নিয়ে আসতেন , ফলে সেখানে আরো কম সংখ্যক শিক্ষার্থীই ভালো। ৪৫ বছর বয়সের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীরা চোখে কম দেখেন বলে পড়তে সমর্থ হন না, কিন্তু আলাপ আলোচনায় তারা বেশ সক্রিয় ছিলেন। ছয় মাস সময় নির্ধারণের জন্য এমন একটি সময় বেছে নেওয়া উচিত যে সময়ে কাজের উচ্চ চাপ থাকে না। ধান রোপন বা ধান কাটার মাস একেবারে শুরুর দিকে পড়লে অনিয়মিত জনিত কারণে শিখনে ঘাটতি হয়। সেবক সেবিকা নির্বাচনে অঙ্গীকার এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে হয়।


বয়স্ক শিক্ষার অবকাঠামোর নীতিমালা এবং শিক্ষার্থীদের অর্জনের পরিসংখ্যানের ওপর আলোকপাত করে এফআইভিডিবি থেকে একটি বুকলেট প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালের মে মাসে এবং জুন মাসে ADAB News জার্নালে Adult Literacy: FIVDB Approach প্রকাশিত হওয়ার পর এনজিও মহলে বেশ সাড়া পড়ে যায়। কিছু দিনের মধ্যে এডাব ( তখন ছিলো Agricultural Development Agencies in Bangladesh পরবর্তীতে Association of Development Agencies in Bangladesh) বাংলাদেশে এনজিওদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে একটি কর্মশালা আহ্বান করে যাতে ১৩/১৪ টি সংস্থা অংশগ্রহণ করে। আমরা ব্যবহারিক লেখাপড়ার গবেষণালব্ধ অর্জনগুলো তুলে ধরি। ঐ সময় MEP DANIDA নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা নোয়াখালী অঞ্চলে কাজ করতো। ঐ সংস্থাটি ব্যাপকভাবে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতো। তাদের বেশ কিছু বয়স্ক সাক্ষরতা কেন্দ্রও ছিলো। এডাবের কর্মশালায় এফআইভিডিবি’র ব্যবহারিক লেখাপড়া উপকরণ এবং ডানিডা পরিচালিত শিশু শিক্ষা কার্যক্রম সবার দৃষ্টি কাঁড়ে।
এফআইভিডিব’র কার্যক্রম পরিচালিত হতো সিলেটের খাদিম নগর থেকে। Rural Development Training Institute ( বর্তমানে এর ভিন্ন নাম) এর একটি ঘরে ছিলো অফিস। ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ছিলো লিয়াজো অফিস। এখানে ছিলেন প্রবীণ ব্যক্তি মোত্তালেব সাহেব যিনি আইভিএসএর হয়ে কাজ করতেন। আমরা মোত্তালেব সাহেবের আতিথেয়তায় ধন্য হতাম। আজ প্রসঙ্গক্রমে তাঁর নাম আসায় প্রয়াত এ মহান ব্যক্তির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এডাবের কর্মশালার পরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের যোগাযোগে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকা অফিস। সিলেটে ফোন করে যোগাযোগ সম্ভব হতো না বলেই ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমাদের পূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়া কেবল বই সরবরাহের কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। কোনো লাভজনক কারণে এ শর্ত দেওয়া হয়নি। এ পদ্ধতি আয়ত্ব করা ছাড়া শুধু বই পড়ে যে কেউ সেবক/সেবিকা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারবেন না। আমরা বলতাম প্রথমে স্টাফ প্রশিক্ষণ নেবেন, তিনি কমপক্ষে দু’মাস প্রথম প্রাইমার দ্বারা একটি শিক্ষা দল চালাবেন, তারপর নিজে প্রশিক্ষক হয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবেন।


১৯৮২ সালে এফআইভিডিবি’র প্রশিক্ষণ ও উপকরণ ব্যবহার অন্য এনজিওরা শুরু করেছিল্। আমি ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বরে এফআইভিডিবি থেকে চলে আসা পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি সংস্থায় সম্প্রসারিত হয়েছিল।

। ষোল ।


আমরা যেভাবে প্রাইমার প্রণয়ন করেছিলাম তাতে শিক্ষার্থীদের লেখার স্পেস ছিলো। হাতের লেখা, ছবি থেকে মূল বাক্য তারপর বাক্য থেকে শব্দ এবং সেখান থেকে বর্ণ ও চিহ্ন পরিচয়ের একটা আলাদা স্টাইল। এসব ব্যাপক সংখ্যায় ছাপানো খুব দুরূহ। অবশেষে আমরা সন্ধান পেলাম ফটো কম্পোজের। ব্র্যাক প্রিন্টার্সের সাথে কথা হলো তারা ফটো কম্পোজ করে বই ছাপবে। এ সময় লেখার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদেরকে প্রেসেও যথেষ্ট সময় দিতে হয়েছে। প্রাইমার চার্ট এবং ফ্লাসকার্ড এভাবে ছাপা হতো। আর সহায়ক অনুসরণিকা ছাপানো হতো সিলেটের লেটার প্রেসে। সেখানেও লেখার প্রুফ নিশ্চিত করে ছাপানোর আদেশ দেওয়া পর্যন্ত কত যে ঝামেলা ছিলো তা আজকের প্রিন্টিংয়ের সময় কল্পনাও করা যায় না।


শুরুতে এফআইভিডিবি’র ২০ কপি করে তিনটি প্রাইমার, তিন সেট ফ্লাসকার্ড, একটি চার্ট এবং সহায়ক নিদের্শিকা মিলে একটি শিক্ষা দলের উপকরণের মূল্য ছিল ৫০০ টাকা। আর আমরা এফআইভিডিবি’র পক্ষ থেকে সিলেটে আবাসিক ১০ দিনের প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য খুব সম্ভবত জনপ্রতি ৮০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। ১৯৮৩ পর্যন্ত এরকম প্রশিক্ষণ পরিচালনায় আমিই ছিলাম শিখণ্ডি, জেমস তাঁর সীমিত বাংলা দ্বারা পদ্ধতির নানা দিক এবং বিশেষত কীভাবে ধৈর্যের সাথে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অংশ নিশ্চিত করতে হয় তা দেখাতেন।


ঢাকায় এফআইভিডিবি’র প্রতিনিধি হয়ে বিশেষ করে সংস্থার মাসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করার দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ তাহের। তাঁর ওপর দায় বর্তায় সংস্থাসমূহের জানতে চাওয়ার সকল উত্তর প্রদান। বই ছাপানো ও সরবরাহ, প্রশিক্ষণের তথ্য প্রদান এসব কাজ অনেক হাঙ্গামাপূর্ণ হলেও মোহম্মদ তাহের তা হাসিমুখে সম্পাদন করতেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার কাজটিও তাঁকে করতে হতো।


সিলেটে মাঠ পরীক্ষা সম্পন্ন করা উপকরণ দেশের অন্য জায়গায় কেমন চলছে তা আমরা ফলোআপও করতাম। প্রথম যে সংস্থাটি এফআইভিডিবি উপকরণ ব্যবহার করে সেটি ছিল ‘উন্নয়ন সংঘ জামালপুর’ । তারা জাপানি একটি সংস্থা থেকে (শাপলা নীড়) তহবিল পেয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেছিল। মি. সামসুল হুদা এবং মিসেস মোরশেদা হুদা এটি চালাতেন। এর আগে মিসেস হুদা কাজ করতেন ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচিতে এবং মি. হুদা কাজ করতেন লাইভস্টকে। চার মাস পরে জেমস এবং আমি দেখতে গেলাম তাদের অগ্রগতি। খুব সুন্দর চলেছিল। নারী দলগুলোতে লেখাপড়ার অগ্রগতি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ঐ সময় আমাদের প্রাইমারগুলো ছিলো সাধু ভাষায় লিখা। ফলে ক্রিয়াপদসহ সকল শব্দে সিলেবল ড্রিলিং খুব কাজ করতো। তখন ওরা তৃতীয় প্রাইমার শুরু করেছে। ওই প্রাইমারে প্রতি পাঠের পড়ার অংশ শেষে চিঠি লেখার স্পেস ছিলো। দেখলাম একজন কিশোরী শিক্ষার্থীর বইয়ের ঐ স্পেসে তার পরিচিত কেউ প্রেম নিবেদন করে লিখেছে। ঐ লেখার প্রতি আমাদের দৃষ্টি পড়েছে লক্ষ্য করে মেয়েটি লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছিল। অন্য একটি কেন্দ্রে জেমসের মুখে চমৎকার বাংলা শুনে অনার্স পড়ছে এমন একটি ছেলে তাকে জিজ্ঞেস করলো ‘আচ্ছা আমেরিকায় বাংলা কম্পলসারি না ইলেকটিভ।’ তার প্রশ্নের জবাব কী হতে পারে! জেমস প্রশ্নটি বোঝার পর বললো ’বাংলাদেশে কাজ করতে হলে অবশ্যই বাংলা শিখতে হবে।‘ জানি না ছেলেটি কী বুঝেছিল।


আমরা সংস্থার কর্মীদের সাথে আলোচনা করলাম। সহায়ক অনুসরণিকা এবং প্রাইমারে কিছু শব্দ ছিল যেগুলো সিলেটের বাইরের লোক বুঝবেন না। সেসব দিক আমরা নোট করলাম। যেমন আমরা বিঘা শব্দের বদলে ‘কেযার’ (৩০ শতক) ব্যবহার করেছিলাম। বিষয়বস্তুর মধ্যেও পার্থক্য ছিল। যেমন ‘আমরা ঈদে পিঠা বানাই’। সিলেটে ঈদের সময় পিঠা বানানোর ধুম পড়লেও অন্য জায়গায় ঈদে পিঠা মুখ্য নয়।


পরবর্তীতে জাতীয় চাহিদার সাথে সম্পর্ক রেখে সবকিছুই চলিত ভাষায় রূপান্তরিত করি। কিন্তু অনেক জায়গায় বিশেষ করে সিলেটে তা পড়া শেখার কিছুটা অন্তরায় বটে। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ‘দেখিলাম’ শব্দটি তারা সিলেবলের মাধ্যমে উচ্চারণ করে চট জলদি বুঝে নেয়। কিন্তু ’দেখলাম’ শব্দকে দেখোলামএর মতো উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খায়। তবে অনুশীলনের মাধ্যমে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে। (চলবে..)

আ.ন.স হাবীবুর রহমান: উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিশেষজ্ঞ।

Previous articleবয়স্ক সাক্ষরতার গালগল্প (প্রথম পর্ব)
পরবর্তী লেখাসভ্যতা ও শিক্ষার পত্তন-পতনের ইতিহাস: আমাদেরই কথা
মুশফিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিএড (অনার্স) ও এমএড ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন শিক্ষা নিয়ে, বিশেষ করে শিক্ষায় আইসিটি, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে। মুশফিকুর রহমান তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষায় আইসিটি বিষয়ে অঙ্কুর আইসিটি ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনে। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে সেকায়েপ প্রজেক্টে মাস্টার ট্রেইনার ও রস্ক প্রজেক্টে ট্রেনিং কোঅর্ডিনেটর হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন বিষয়ক সেভ দ্যা চিলড্রেনের একটি প্রজেক্টে মাঠ পর্যায়ে থেকে সরাসরি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি শিক্ষা ও অন্যান্য বিষয়ে লেখালেখি করে আসছেন। তিনি 'বাংলাদেশের শিক্ষা' ওয়েবসাইটের সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here