বাংলাদেশের শিক্ষা-শুদ্ধস্বর-সাইড লোগো
বাংলাদেশের শিক্ষা-শুদ্ধস্বর-সাইড লোগো


সম্পাদক: প্রিয় লেখক ও পাঠক, বাংলাদেশের শিক্ষাবিষয়ক ওয়েব সাইট ‘বাংলাদেশের শিক্ষা’ এবং প্রকাশনা সংস্থা ‘শুদ্ধস্বর’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা’ ওয়েব সাইটে প্রকাশিত শিক্ষাবিষয়ক সেরা লেখাকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পুরস্কৃত করার উদ্যোগের বর্তমান প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০১৩ সালের জানুয়ারি – মার্চ পর্যন্ত সময়ের জন্য বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আকলিমা শরমিন। এ সময়ের মধ্যে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা’ ওয়েব সাইটে প্রকাশিত লেখাগুলো থেকে তিনি সেরা লেখাটি বাছাই করবেন এবং কেন তাঁর দৃষ্টিতে লেখাটি সেরা তাও তিনি ভিন্ন একটি লেখার মাধ্যমে জানাবেন। যদিও ইতোপূর্বে পুরস্কারের নিয়মাবলী জানানো হয়েছিল, লেখক ও পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তা পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

নিয়মাবলী
১. প্রতি বছরকে চার ভাগে ভাগ করে অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ, এপ্রিল-জুন, জুলাই-সেপ্টেম্বর, অক্টোবর-ডিসেম্বর- এই তিনমাস প্রান্তিকে প্রকাশিত লেখাগুলো ত্রৈমাসিক পুরস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হবে। সেখান থেকে একটি লেখাকে চূড়ান্তভাবে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হবে। প্রতি বছর এরকম চারটি পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো লেখকের একাধিক লেখা এ সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হলে সবগুলো লেখাই প্রাথমিক বাছাইয়ে থাকতে পারে।

শুদ্ধস্বর-বাংলাদেশের শিক্ষা ত্রৈমাসিক সেরা লেখা পুরস্কার
শুদ্ধস্বর-বাংলাদেশের শিক্ষা ত্রৈমাসিক সেরা লেখা পুরস্কার

২. সেরা লেখার লেখককে পুরস্কার হিসেবে ৫০০ টাকার বই উপহার দেয়া হবে। ‘শুদ্ধস্বর’ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের বই লেখককে সরাসরি অনুষ্ঠান বা কুরিয়ারের মাধ্যমে লেখকের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

৩. শিক্ষাবিষয়ে সরাসরি কাজ করছেন কিংবা শিক্ষার নানা বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত- এমন একজন বিচারক প্রতিটি লেখা পড়ে তিনমাসের সেরা লেখা মনোনীত করবেন। সেরা লেখা মনোনীত করার পর বিচারক সেই লেখার ওপর বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করবেন যা ‘বাংলাদেশের শিক্ষা’ ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে। সেরা লেখার ব্যাপারে বিচারকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

৪. বিচারক নিজেই যদি ‘বাংলাদেশের শিক্ষা’ ওয়েব সাইটে লিখেন, তাহলে তাঁর লেখাসমূহ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবে না। তাছাড়া ‘বাংলাদেশের শিক্ষা’ এবং ‘শুদ্ধস্বর’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট কারোর লেখা পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না।

৫. প্রতি বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখা এবং সেই লেখার ওপর বিচারকের মতামতসমূহ পরবর্তী সময়ে ইবুক আকারে প্রকাশ করা হবে।

বিচারকের পরিচিতি
জানুয়ারি-মার্চ ২০১৩ প্রান্তিকে বিচারকের দায়িত্ব পালনকারী আকলিমা শরমিনের পরিচিতি নিচে দেয়া হলো।

আকলিমা শরমিন
আকলিমা শরমিন

আকলিমা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এমএড এবং বিএড (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি-তে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করছেন। পেশাগত জীবন শুরু করেন ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি, পেইস-এ ম্যাটেরিয়াল ডেভেলপার হিসেবে। পরে সেক্টর স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেন একই স্থানে। তিনি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে অঙ্কুর আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনে কাজ করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল এডুকেশন কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। সরাসরি শিক্ষকদের সাথেও যেমন কাজ করার অভিজ্ঞতা যেমন রয়েছে, তেমনি কাজ করেছেন শিক্ষার্থীদের নিয়েও। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে তিনি “শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। ইচ্ছা শিক্ষা নিয়েই কাজ করার। শিক্ষাকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান বা discipline হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করে যেতে চান সবসময়। আর স্বপ্ন দেখেন এমন এক ভবিষ্যতে যেখানে প্রতিটি শিশু পাবে তার পরিপূর্ণ বিকাশের যথাযথ আর্থ-সামাজিক পরিবেশ।

সরাসরি লেখালেখির সাথে যুক্ত ২০০৮ সাল থেকে, ২০০৯ সালে “Teacher’s World”-এ প্রকাশিত হয় তাঁর মাস্টার অব এডুকেশন-এর গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে রচিত আর্টিকেল “Impact of Reflect Approach to Empower Disadvantage People: An Initiative of Actionaid Bangladesh”। ২০১১ সালে অঙ্কুর থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত “কম্পিউটার শিক্ষা” বইটি যা মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে ব্যবহৃত “কম্পিউটার শিক্ষা” বইয়ের সহায়ক বই হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। ২০১২ সালে অঙ্কুর, সিসনোভা ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেড (সিসনোভা)-এর সহায়তায় Jason R. Briggs-এর “Snake Wrangling for Kids, Learning to Program with Python” বই-এর বাংলা অনুবাদ সফ্ট কপি অর্থাৎ ই-বুক হিসেবে প্রকাশ করে। সেখানেও তিনি সার্বিক সম্পাদনা, বিন্যাস ও সমন্বয়ের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়াও ২০১২ সালে অক্টোবরে অঙ্কুর থেকে প্রকাশিত হয়েছে “পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আইসিটি” শীর্ষক আরেকটি বই, যেখানে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন প্রণয়নকারী হিসেবে।

উল্লেখ্য, আগের দুটি প্রান্তিকের সেরা লেখা বাছাইয়ের কাজটি এখন চলছে। বিচারক মাছুম বিল্লাহ শিগগিরই সেরা লেখা নির্বাচন করে কেন সেগুলো সেরা তা জানাবেন ভিন্ন দুটো লেখার মাধ্যমে। আমাদের এই উদ্যোগ বা পুরষ্কার সম্পর্কে আপনাদের কোনো প্রশ্ন, মতামত বা পরামর্শ থাকলে এখানে জানাতে পারেন। আশা করছি, এই উদ্যোগে আপনাদেরকে আমরা সাথে পাবো। ধন্যবাদ।

Previous articleরবীন্দ্রনাথ: কম-জানা, অজানা
পরবর্তী লেখাশিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল
গৌতম রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষায় স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষা-গবেষক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগে। পরবর্তীতে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এ যোগ দেন গবেষণা ও মূল্যায়ন সমন্বয়ক হিসেবে। সেখান থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা পেশায় আসেন। তিনি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট উভয় পর্যায়ে শিক্ষা-গবেষণার সাথে সম্পর্কিত কোর্সসমূহ যেমন—শিক্ষায় গবেষণা পদ্ধতি, শিক্ষায় মূল্যায়ন ও পরিমাপ, শিক্ষায় কর্মসহায়ক গবেষণা, শিক্ষা গবেষণায় পরিসংখ্যান ইত্যাদি কোর্সসমূহ পড়াচ্ছেন। পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণার সাথেও যুক্ত রয়েছেন। গবেষক হিসেবে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, শিক্ষায় মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষা ও আইসিটি, কমিউনিটির সম্পৃক্ততা, শিক্ষায় প্রবেশগম্যতা, শিক্ষা প্রকল্প মূল্যায়ন ইত্যাদি বিষয়ে ৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষা-বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষা-বিষয়ে নিয়মিত লিখছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ায়। তিনি ‘বাংলাদেশের শিক্ষা’ ওয়েবসাইটের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here